রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের আওতাধীন হেতেম খাঁ কলাবাগান এলাকায় সীমানাপ্রাচীর স্থাপনের কাজের আড়ালে একটি পুকুর ভরাটের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য খনন করা মাটি পাশের একটি পুকুরে ফেলা হচ্ছে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সল আলম।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা শুরুতে জানতে পেরেছিলেন যে এলাকায় শুধুমাত্র মেডিক্যাল কলেজের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে, ওই কাজের পাশাপাশি পুকুর ভরাটের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বলেন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেল মাঠে এলাকার শিশু-কিশোররা নিয়মিত খেলাধুলা করে এবং সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফেরার সময় এই পুকুরে হাত-পা ধুয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, একসময় এই পুকুরে শরীরচর্চা ও শিশুদের সাঁতার শেখানোর জন্য ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে পুকুরটির অবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। তারা চান, পুকুরটি ভরাট না করে পুনরায় সংস্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক, কারণ আশপাশের এলাকায় আর কোনো জলাশয় নেই।
পুকুর ভরাটের অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সল আলম বলেন, ‘সেখানে আমার লোক আছে, আমাকে সবসময় কাজের আপডেট জানায়। পুকুর ভরাটের বিষয়ে কেন জানালেন না, এটা আমি দেখছি।’ তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. আশরাফুল হাসান বাচ্চু বলেন, ‘আমরা ৪-৫ জন মিলে এই টেন্ডারের কাজ করছি। আমরা পুকুরের ক্ষতি না করে কাজটি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
আইন অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া কোনো পুকুর, ডোবা, খাল বা জলাধার ভরাট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০ ও ২০২৩) অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুরও ভরাট করা যাবে না। আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিলেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুকুর বা জলাধারের জায়গায় কোনোভাবেই মাটি ফেলা যাবে না এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক বলেন, সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন কোনো পুকুর ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই পুকুর ভরাট করা যাবে না এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি পুকুরটির সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সিএ/এএ


