ঢাকার উত্তরায় এক বিত্তবান পরিবারের কাছে কাজে দেওয়া ১১ বছরের মেয়েটিকে সাত মাস ধরে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটির বাবা প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলার সময় জানান, তার মেয়ের শরীরের প্রায় সব জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, পুরো শরীরে পোড়া ক্ষত এবং গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক বলেছেন, সুস্থ হতে অন্তত দুই মাস সময় লাগবে।
মেয়ের বাবা জানান, মেয়ের বয়স এক বছর হলে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী মারা যান। আর্থিক সংকট ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সাত মাস আগে মেয়েকে ঢাকার উত্তরার এক বিত্তবান পরিবারের কাছে কাজে দেন। ওই পরিবার আশ্বাস দেয়, মেয়ের বিয়েসহ সব খরচ তারা বহন করবে।
গত বছরের জুনে মেয়েটিকে ওই বাসায় দিয়ে আসেন তার বাবা। বাসাটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের। গত ৩১ জানুয়ারি মেয়েকে দেখতে গিয়ে বাবার চোখে পড়ে দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন। মেয়েকে পরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মেয়ের বাবা অভিযোগ করে ২ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় শিশু নির্যাতনের মামলা করেন। মামলায় বিমান বাংলাদেশের এমডি সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বিথী আক্তারসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পুলিশ ওই দিনই চারজনকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের নির্দেশে তারা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মেয়েটির বাবা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়ের গলা, পিঠ, হাত, পা–সহ শরীরের প্রায় সব জায়গায় আঘাতের দাগ। পুরো শরীরে পোড়া ক্ষত। সারা শরীরে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। ঠিকমতো কথা বলতেও পারে না।’
তিনি আরও জানান, গত বছর নভেম্বর পর্যন্ত মেয়েকে সুস্থ দেখেছেন। এরপর কয়েকবার দেখা করতে গেলে নানা অজুহাতে মেয়েকে দেখা যেতে দেননি। ৩১ জানুয়ারি দুপুরে স্ত্রী ফোনে জানান মেয়েটি অসুস্থ, তারপর সন্ধ্যা সাতটার দিকে মেয়েকে বাবার হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
সিএ/এমই


