আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই সনদ’ জাতীয় গণভোটকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর জেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। জেলার মোট ৭০৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪২২টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত বল মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুরের ৫টি সংসদীয় আসনে এবার মোট ৭০৬টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৭৬টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। উপজেলা অনুযায়ী কেন্দ্রের সংখ্যা, চাঁদপুর সদর: ১৩৩টি,ফরিদগঞ্জ: ১১৮টি, কচুয়া: ১১০টি, মতলব উত্তর: ৯৮টি, হাজীগঞ্জ: ৯০টি, শাহরাস্তি: ৬৮টি, মতলব দক্ষিণ: ৫৭টি, হাইমচর: ৩২টি।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার আটটি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২১ বীর ব্যাটালিয়ন ও ১৮ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের প্রায় ১ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় বিজিবি’র দুটি করে প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে।
ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন, পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি: ৮ হাজার ৫২০ জন,গ্রাম পুলিশ: ১ হাজার ৪১২ জন।এছাড়া র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক টহলে থাকবেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশের শরীরে ‘বডি অন ক্যামেরা’ থাকবে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ২২ জানুয়ারি শুরু হয়েছে যা চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ভোটগ্রহণে মোট ৭০৬ জন প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ হাজার ২৬০ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।
চাঁদপুর জেলায় মোট ভোটার: ২৩ লাখ ৩১ হাজার ২৩৫ জন।পুরুষ: ১২ লাখ ১ হাজার ৬৪৪ জন।নারী: ১১ লাখ ২৯ হাজার ৮৭৪ জন।হিজড়া: ১১ জন।মোট প্রার্থী: ৩৫ জন।
গত ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যস্ত থাকলেও কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন থেকে সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জেলাজুড়ে কন্ট্রোল রুম সক্রিয় থাকবে।
শিমুল অধিকারী সুমন, চাঁদপুর
সিএ/জেএইচ


