বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনী মাঠে তৎপরতা বাড়ছে দুই দলের। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের ঘটনাও বাড়ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের শক্ত ভোটব্যাংক থাকলেও এবারের নির্বাচনে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর জোট থেকে বের হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ফলে ধর্মভিত্তিক ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বিএনপি।
পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৫ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৬৯ হাজার ৭৭৫ জন এবং শিখণ্ডী সম্প্রদায় (হিজরা)-এর ভোটার চারজন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মোট নয়জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডা. সুলতান আহমদ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান। এ ছাড়া ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. সাব্বির আহমেদ, কাঁঠাল প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মো. কামরুজ্জামান লিটন, লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির আব্দুল লতিফ ফরাজী, সিংহ প্রতীকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সৈয়দ মো. নাজেস আফরোজ, আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি-এনপিপির মো. সোলায়মান এবং জাহাজ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাশেদ উদ জামান নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
বিএনপি প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম ইতোমধ্যে ব্যাপক গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছেন। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করছেন এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছেন। স্থানীয় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নদীভাঙন প্রতিরোধ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন তিনি।
মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বরগুনা-২ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করব। মানুষের অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে আমি সবসময় ছিলাম এবং থাকব।’
অন্যদিকে, এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের অতীতের নির্বাচনী সাফল্যের ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির প্রার্থী পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে স্থানীয়দের ধারণা, এবারের নির্বাচনে বিএনপি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় এবং জামায়াত জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন আলাদা হয়ে যাওয়ায় ভোট বিভাজনের প্রভাব পড়তে পারে। চরমোনাইয়ের ভোটকে এতদিন উভয় দলের জন্য জয় নির্ধারণী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদও গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। তিনি ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন চাইছেন। বেতাগী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি প্রভাষক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডা. সুলতান আহমদ এ আসনে নতুন মুখ নন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে মানুষের পাশে রয়েছেন। বিপরীতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এ আসনে নতুন এবং তাঁর বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলায়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বেতাগী উপজেলা সভাপতি মাওলানা মো. ইউসুফ আলী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আগের তুলনায় এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের জনসমর্থন বেড়েছে। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারলে হাতপাখা প্রতীকে মুফতি মো. মিজানুর রহমান কাসেমী বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।
সিএ/এএ


