গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ প্রস্রাবের চাপ অনুভব করে অনেকে বাথরুমে যান। কারও কারও ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সময় বা ঠিক পরেই মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় মিক্টুরিশন সিনকোপ।
চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা পুরুষদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ঘটনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পুরুষদের ক্ষেত্রে ঘটে। তবে নারীরাও এ ঝুঁকির বাইরে নন।
যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে, তবে দুটি বয়সভিত্তিক ঝুঁকি বেশি। ৩৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণের পর রাতে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। আবার ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে গভীর রাত বা ভোরে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
মিক্টুরিশন সিনকোপ সাধারণত প্রাণঘাতী নয়। তবে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ার সময় মাথা বা শরীরের অন্য অংশে গুরুতর আঘাত লাগতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাড় ভাঙার ঝুঁকিও থাকে। একা থাকলে পড়ে গিয়ে সাহায্য না পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
প্রস্রাবের সময় মূত্রথলির কিছু স্নায়ু সক্রিয় হয়ে ভ্যাগাস নার্ভকে উত্তেজিত করে। এর ফলে হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যায়, রক্তনালি প্রশস্ত হয় এবং হঠাৎ রক্তচাপ কমে যায়। এতে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে মানুষ অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে রক্তচাপ আরও কমে যেতে পারে। অ্যালকোহল পান করা থাকলে ঝুঁকি বাড়ে, কারণ এটি শরীরকে পানিশূন্য করে এবং রক্তনালি শিথিল করে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, রাতে হঠাৎ উঠে দাঁড়ানোর আগে কিছুক্ষণ বসে থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এবং রাতে বসে প্রস্রাব করা এই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
সিএ/এমআর


