আয়রনের ঘাটতি নারীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ পুষ্টি-সংক্রান্ত সমস্যা। কিশোরী থেকে শুরু করে গর্ভবতী ও প্রসব পরবর্তী নারীরাও এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। আয়রনের অভাবে ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া, চুল পড়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেকে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলেও অনেক সময় কার্যকর হয় না। কেন কেবল সাপ্লিমেন্টে নির্ভর করা যথেষ্ট নয়, তা জানাটা জরুরি।
সাপ্লিমেন্ট কার্যকর না হওয়ার কারণ
আয়রন শোষণের সমস্যা প্রধান কারণ। পাকস্থলীর অ্যাসিড কমে যাওয়া, অন্ত্রে প্রদাহ, ভিটামিন সি-এর ঘাটতি এবং চা-কফি খাওয়ার মতো সাধারণ অভ্যাস আয়রনের শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ট্যাবলেট বা সাপ্লিমেন্টের প্রভাব প্রত্যাশার মতো দেখা যায় না।
নারীর আয়রন হ্রাসের মূল কারণ
শুধু সাপ্লিমেন্ট দেওয়া যথেষ্ট নয়। নারীর মধ্যে আয়রনের ঘাটতি সাধারণত এই কারণে হতে পারে:
- ভারী মাসিক রক্তপাত
- বারবার গর্ভাবস্থা
- প্রসব পরবর্তী সুস্থতায় দেরি হওয়া
- জরায়ুতে ফাইব্রয়েড
- ঘন ঘন রক্তদান
- অন্ত্রের লুকানো রক্তপাত
খাদ্যের ভূমিকা
চা, কফি ও কিছু ভেষজ চায়ে থাকা পলিফেনল এবং ট্যানিন আয়রনের শোষণ কমিয়ে দেয়। এছাড়া ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ ও পনির সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে খেলে শোষণে ব্যাঘাত ঘটায়। অনেক নারী সবুজ শাক-সবজি, ডাল, বাদাম এবং শস্য উপেক্ষা করে শুধুমাত্র সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করেন।
সঠিক খাদ্য গ্রহণে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত:
- পালং শাক, মসুর ডাল, ছোলা, টোফু বা বীজ
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন লেবু, টমেটো, বেল পেপার বা আমলকী
ফাংশনাল আয়রন ডেফিসিয়েন্সি
কখনও শরীরে আয়রন থাকলেও তা ব্যবহারযোগ্য নাও হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হেপসিডিন হরমোন বাড়িয়ে স্টোরেজ কোষে আয়রন ধরে রাখে। দীর্ঘস্থায়ী চাপ, স্থূলতা, সংক্রমণ ও অটোইমিউন রোগ ফাংশনাল আয়রন ডেফিসিয়েন্সি সৃষ্টি করতে পারে। এই ক্ষেত্রে ভিটামিন এ আয়রন মুক্ত করতে সাহায্য করে, আর ফোলেট, ভিটামিন বি১২ ও কপার লোহিত রক্তকণিকা গঠনের জন্য অপরিহার্য।
সার্বিক পদ্ধতি প্রয়োজন
শুধু ট্যাবলেট খাওয়ার মানসিকতা বদলাতে হবে। আয়রনের ঘাটতি মোকাবিলায় কার্যকর হলো:
- সুষম ও সঠিক খাদ্য
- আয়রনের শোষণ বাড়ানো খাবার সংমিশ্রণ
- অন্তর্নিহিত সমস্যার চিকিৎসা
- নিয়মিত পর্যবেক্ষণ
এইভাবে নারীর আয়রনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব।
সিএ/এমআর


