উপকূলীয় বরগুনার বেতাগী পৌরসভা ও সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর ও সড়কের পাশে লাগানো আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কৃষি অফিস ও গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ গাছে মুকুল ফুটেছে এবং বাতাসে ম-ম গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
গবেষকদের মতে, পুরোপুরি মুকুল আসতে আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। ঘন কুয়াশার কারণে এবছর চাষিরা মুকুলের ক্ষতি নিয়ে চিন্তিত। সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেতাগীর পৌর শহরের ঢালিকান্দা এলাকায় একটি আম বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি গাছে মুকুল ফুটেছে। বড় গাছের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল দেখা যাচ্ছে। মুকুলের গন্ধে বাগান মালিকদের মুখে খুশির হাসি ফুটেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, বেশিরভাগ গাছে মুকুল আসতে এখনও দুই সপ্তাহের মতো সময় লাগবে। ঘন কুয়াশার কারণে এবার আম উৎপাদন নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে উপকূলীয় এলাকায় ঘন কুয়াশা ছিল, যা মুকুল ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
আম চাষি কৃষ্ণ কান্ত ঘরামী বলেন, ‘এলাকার অনেক বাগান ঘুরেছি, অধিকাংশ গাছে মুকুল এসেছে, কিন্তু সব গাছে পুরোপুরি মুকুল আসেনি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সব গাছে মুকুল ফুটে যাবে।’
বাগান মালিকরা জানান, বেতাগীতে দেশি প্রজাতির ফজলি, লক্ষ্মণভোগ, আশ্বিনা, গোপালভোগ, হাঁড়িভাঙা, বারি-৪সহ বিভিন্ন প্রজাতির আম চাষ হয়। গত বছর আমের দাম ভালো হওয়ায় এবছর চাষিরা আমের পরিচর্যায় বেশি মন দিয়েছেন। তারা বাড়তি ফলনের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
চাষিরা আরও জানান, বাড়তি ফলনের জন্য এবং পোকামুক্ত রাখার সঙ্গে আমের রং ঠিক রাখতে কীটনাশক ও ভিটামিন দিয়ে গাছ স্প্রে করছেন। গাছের গোড়ায় জৈব সার ও সেচ দেওয়ায় মুকুল ভালোভাবে এসেছে। বেতাগী পৌরসভার আম চাষি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কৃষিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী শ্রমিকরা গাছের পরিচর্যা করছেন।’
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পুরোপুরি মুকুল আসেনি। পুরোপুরি আসতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। ঘন কুয়াশার কারণে জীবানুনাশক ছিটানো যেতে পারে।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, ‘বাগানের গাছের ৩০ শতাংশ মুকুলে ভরে গেছে। ঘন কুয়াশা বা কোনো দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন হবে। মুকুল রক্ষায় পোকা দমনে বালইনাশক ছিটানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
সিএ/এএ


