ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভোরে পুণে জেলার বারামতির কাছে অবতরণের সময় তাঁর বহনকারী লিয়ারজেট–৪৫ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় বিমানে থাকা ছয়জনের কেউই বেঁচে যাননি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
এই দুর্ঘটনা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ভারতের ইতিহাসে আকাশপথে দুর্ঘটনায় বহু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব প্রাণ হারিয়েছেন। অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর আগেও বিমান ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতার করুণ মৃত্যু হয়েছিল।
২০২৫ সালের ১২ জুন গুজরাটের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা বিজয় রূপানি এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় বিমানের ২৪১ জন আরোহীর সবাই নিহত হন।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ভারতের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত, তাঁর স্ত্রীসহ আরও ১২ জন তামিলনাড়ুর কুনুর এলাকায় একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন। তদন্তে খারাপ আবহাওয়াকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী দোরজি খান্ডু তাওয়াং যাওয়ার পথে পবন হংসের একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। চীন সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম এলাকায় কয়েক দিন পর দুর্ঘটনাস্থলের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
২০০৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডি ভারি বৃষ্টির মধ্যে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।
২০০৫ সালের ৩১ মার্চ হরিয়ানার বিদ্যুৎমন্ত্রী ওপি জিন্দাল ও কৃষিমন্ত্রী সুরেন্দ্র সিং উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের কাছে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান। কারিগরি ত্রুটি ও কম দৃশ্যমানতাকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ধরা হয়।
২০০২ সালের ৩ মার্চ লোকসভার স্পিকার জি এম সি বালাযোগী অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। সেসময় খারাপ আবহাওয়ার কথা জানানো হয়।
২০০১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কংগ্রেস নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মাধবরাও সিন্ধিয়া উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরির কাছে একটি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছিল।
১৯৮০ সালের ২৩ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পুত্র সঞ্জয় গান্ধী দিল্লির সফদরজং বিমানবন্দরের কাছে প্রশিক্ষণমূলক উড্ডয়নের সময় বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। পাইলটের ত্রুটিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এরও আগে ১৯৪৫ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তাইওয়ানে এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন বলে সরকারি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। তবে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে আজও নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন রয়ে গেছে।
দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের নাম। একের পর এক এই দুর্ঘটনাগুলো ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ও স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
সূত্র: খালিজ টাইমস
সিএ/এসএ


