প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের ৫ বছরের বেশি সময় ধরে এক প্রতিষ্ঠানে থাকা উচিত নয়। পাশাপাশি তিনি প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পরপর পুনর্গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে সরকার কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে।
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য দেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তির গতি এত দ্রুত যে নীতি প্রণয়নকারীরা দ্রুত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে। তাই তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়া ও সরকারের কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানো প্রয়োজন।
ড. ইউনূস আরও বলেন, ডিজিটালাইজেশন মানে শুধু দপ্তরের ভেতরে কম্পিউটার বসানো নয়, বরং জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া। সরকারি সেবা নাগরিকের কাছে পৌঁছানো না হলে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ব্যবধান সরানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আজকের শিশু প্রযুক্তি ব্যবহারে এত দক্ষ যে ২৫ বছর পর বর্তমান প্রজন্মকে তাদের কাছে “গুহাবাসী” মনে হবে। এই প্রযুক্তি দক্ষতা নতুন প্রজন্মকে শক্তিশালী করে তুলছে এবং নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ড. ইউনূস চাকরিকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “মানুষ জন্মেছে সৃজনশীল জীব হিসেবে, দাস হিসেবে নয়। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। সরকারের দায়িত্ব হবে নীতি ঠিক করে দেওয়া, যাতে তরুণরা স্বাধীনভাবে উদ্যোক্তা হতে পারে।”
তিনি বলেন, সরকারি কাঠামোতে ৫ বছরের বেশি থাকা ঠিক নয়, কারণ দীর্ঘকাল একই কাঠামোয় থাকা মনকে স্থির করে দেয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পরপর নতুন করে সাজানো উচিত। প্রযুক্তির কাজ হলো পুরনোকে ফেলে দেওয়া, আর সরকারের কাজ হলো পুরনোকে আঁকড়ে ধরা; এই দ্বন্দ্বে প্রযুক্তিকেই জিততে হবে।
ড. ইউনূস বাংলাদেশের জালিয়াতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জাল সার্টিফিকেট, ভিসা ও পাসপোর্টের কারণে দেশটির নাগরিকদের বৈদেশিক প্রবেশাধিকার সীমিত হচ্ছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সুযোগের মাধ্যমে এই কলঙ্ক দূর করা সম্ভব হবে।
সিএ/এসএ


