ইসলামবিরোধী বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণামূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে এক ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। ব্রিটিশ-ইসরায়েলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার স্যামি ইয়াহুদের বিরুদ্ধে ইসলামকে ‘হিংস্র মতাদর্শ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশে কেউ অস্ট্রেলিয়ায় আসতে চাইলে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার একটি বক্তৃতা দেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় সফরে যাওয়ার কথা ছিল ২৫ বছর বয়সী স্যামি ইয়াহুদের। তবে নির্ধারিত ফ্লাইট ছাড়ার মাত্র তিন ঘণ্টা আগে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ইয়াহুদ ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জানান, তিনি ইসরায়েল থেকে আবুধাবি পৌঁছালেও মেলবোর্নগামী সংযোগ ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, কেউ যদি অস্ট্রেলিয়ায় আসতে চান, তবে তাকে সঠিক ভিসায় এবং সঠিক উদ্দেশ্যে আসতে হবে। তাঁর ভাষায়, ঘৃণা ছড়ানো অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ নয়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইয়াহুদ ইসলাম ধর্মকে ‘মার্ডারাস আইডিওলজি’ বা ‘হত্যাপ্রবণ মতাদর্শ’ বলে উল্লেখ করেন এবং ‘ইসলাম নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে’ বলেও মন্তব্য করেন। নিজেকে গর্বিত ইহুদি হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি ইসরায়েলে স্থায়ী হয়েছেন।
ভিসা বাতিলের ঘটনায় ইয়াহুদ অস্ট্রেলিয়া সরকারের বিরুদ্ধে সেন্সরশিপ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনো ধরনের ঘৃণা ছড়াননি। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইহুদি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাহস, বিশ্বাস ও ঐক্য নিয়ে আলোচনা করা।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ান জিউইশ অ্যাসোসিয়েশন ইয়াহুদের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এতে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট নতুন ঘৃণা ও অভিবাসন আইন পাস করেছে। এই আইনের আওতায় ঘৃণামূলক বক্তব্য বা চরমপন্থার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা সরকারের হাতে রয়েছে। এর আগেও এই আইনের অধীনে কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তির অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান
সিএ/এসএ


