চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করতে আনুগত্যকে সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ক্ষেত্রে তিনি কোনো ধরনের আপস করছেন না—হোক তা শৈশবের বন্ধু কিংবা দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ভেতরে একের পর এক প্রভাবশালী নেতার পতন সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে পার্টি ও রাষ্ট্রযন্ত্রে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছেন সি চিন পিং। এই অভিযানে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর নেতারাই নন, বরং তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা বা ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত অনেক নেতাও ক্ষমতা হারিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সি স্পষ্ট বার্তা দিতে চান—ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, পার্টির প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যই টিকে থাকার একমাত্র শর্ত।
চীনা রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা কাঠামোতেও বড় ধরনের রদবদল দেখা গেছে। একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত বা তদন্তের মুখে পড়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ সি চিন পিংয়ের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই অভিযান কি কেবল দুর্নীতিবিরোধী, নাকি ক্ষমতার ভেতরে সম্ভাব্য হুমকি দূর করার কৌশল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষমতার তৃতীয় মেয়াদে প্রবেশের পর সি চিন পিং আরও কঠোর হয়েছেন। পার্টির ভেতরে ভিন্নমত বা স্বাধীন ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তিনি একেবারেই বরদাশত করছেন না। এর ফলে চীনা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কেন্দ্রীভূত হচ্ছে এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে।
এই বাস্তবতায় চীনের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বার্তাই স্পষ্ট—আনুগত্যের প্রশ্নে কোনো ব্যতিক্রম নেই। বাল্যবন্ধু হোক বা দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা, পার্টি ও নেতার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য দেখাতে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি হতে পারে ক্ষমতা হারানো কিংবা রাজনৈতিক জীবন থেকে বিদায়।
সিএ/এসএ


