শরীরের পেশি গঠন, হাড়ের মজবুত থাকা, টিস্যু মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ওজনের প্রতি কেজিতে অন্তত ০.৮ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা শারীরিকভাবে বেশি সক্রিয়, তাদের প্রোটিনের চাহিদা ১ থেকে ১.৩ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।
অনেকে যেসব খাবারে প্রোটিন কম খেতে চান, তাদের জন্য সবজি একটি বিকল্প। যদিও বেশির ভাগ সবজিতে প্রোটিনের পরিমাণ কম, তবে এডামামে নামক একটি সবজি রয়েছে, যা উচ্চ প্রোটিনযুক্ত। পুষ্টিবিদদের মতে, এক কাপ রান্না করা এডামামে থেকে প্রায় ১৮ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এডামামে শুধু প্রোটিনেই সমৃদ্ধ নয়, এতে রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। নিয়মিত খেলে পেশি শক্তিশালী হয়, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং দীর্ঘদিন কর্মক্ষম থাকা সম্ভব হয়।
এডামামে থাকা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন সহজে হজম হয় এবং শরীরে এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক। এছাড়া নিয়মিত সয়াবিন জাতীয় খাবার খেলে স্মৃতিভ্রংশ, হাড় ক্ষয় ও মানসিক অবসাদের ঝুঁকি কমতে পারে।
এডামামের পাশাপাশি পালং শাক, ব্রকলি, মটরশুঁটি ও কেলও প্রোটিনসমৃদ্ধ সবজি। যদিও এদের প্রোটিন এডামামের মতো বেশি নয়, এগুলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সরবরাহ করে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। অন্যদিকে শসা বা লেটুসের মতো সবজিতে প্রোটিনের পরিমাণ খুবই কম, এক কাপের মধ্যে সাধারণত ১ গ্রামেরও কম। তবে এগুলোও শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ থাকার চাবিকাঠি হলো খাদ্যের বৈচিত্র্য। বিভিন্ন রঙের এবং পুষ্টিগুণের সবজি খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন, যাতে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার সব একসঙ্গে পায়।
সবশেষে বলা যায়, যারা আমিষ খেতে চান না, তাদের জন্য এডামামে হাই প্রোটিন ভেজিটেবল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু পেশিই নয়, পুরো শরীরকেই ভেতর থেকে শক্তিশালী করে।
সিএ/এমআর


