মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানে যুদ্ধ করা যুক্তরাজ্যের সেনাদের প্রশংসা করেছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্র বাহিনীর ভূমিকাকে হালকাভাবে দেখানোর পর সাবেক সেনা, তাদের পরিবার এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের কখনো ন্যাটোর প্রয়োজন হয়নি। আমরা আসলে তাদের কাছ থেকে কিছু চাইওনি। তারা আফগানিস্তানে সেনা পাঠিয়েছে, কিন্তু সামনের সারি থেকে কিছুটা দূরে ছিল।’ এই মন্তব্যের ফলে আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করা সেনাদের পরিবার, সাবেক যোদ্ধা এবং ওয়েস্টমিনস্টারসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের রাজনীতিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এটিকে ‘অপমানজনক ও সত্যিই ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেন। শনিবার স্টারমারের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ব্রিটিশ সেনাদের ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাদের অন্যতম’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
যুক্তরাজ্যের প্রিন্স হ্যারি বলেন, সেনাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা ধারা একবারই প্রয়োগ হয়েছিল—২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার সময় পর্যন্ত জোটভুক্ত বাহিনীর ৩,৫০০-এর বেশি সেনা নিহত হন, যাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক। প্রাণহানির সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ছিল যুক্তরাজ্য—যুদ্ধে দেশটির ৪৫৭ জন সেনা নিহত হন এবং বহু সেনা গুরুতর আহত হন।
ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র জানান, ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার আফগানিস্তানে লড়াই করা ব্রিটিশ ও মার্কিন সেনাদের সাহস ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। এই কথোপকথনের পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের মহান ও অত্যন্ত সাহসী সেনারা সব সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকবে। আফগানিস্তানে ৪৫৭ জন নিহত হয়েছেন, বহুজন গুরুতর আহত হয়েছেন, এবং তারা ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাদের অন্যতম। এই বন্ধন কখনো ভাঙার নয়। আমরা আপনাদের ভালোবাসি, সব সময়ই ভালোবাসব।’
সিএ/এএ


