জলবায়ু সংকটের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে হিমবাহ ও বরফস্তূপ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এর ফলে বিস্ফোরক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে—এমনই সতর্কবার্তা উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। গবেষণা অনুযায়ী, বরফের স্তর সরে গেলে ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা চেম্বারের ওপর চাপ কমে যায়, এতে আগ্নেয়গিরি সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
এই ধরনের প্রক্রিয়ার উদাহরণ ইতোমধ্যে আইসল্যান্ডে দেখা গেছে। দ্বীপটি মধ্য-সমুদ্রের টেকটোনিক প্লেটের সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে বরফ ক্ষয়ের সঙ্গে আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা বৃদ্ধির সম্পর্ক স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে। চিলিতে পরিচালিত নতুন এই গবেষণাটি আরও এক ধাপ এগিয়ে দেখিয়েছে, শেষ বরফ যুগের অবসানের পর কোনো মহাদেশে আগ্নেয়গিরির তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রমাণ।
জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে। এর ফলেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বরফস্তূপ ও হিমবাহ দ্রুত গলছে। গবেষকদের মতে, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে, যেখানে ঘন বরফের নিচে কমপক্ষে ১০০টিরও বেশি আগ্নেয়গিরি সক্রিয় অবস্থায় আছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, অগ্ন্যুৎপাতের সময় বায়ুমণ্ডলে সূর্যালোক প্রতিফলিত কণা ছড়িয়ে পড়ে, যা সাময়িকভাবে পৃথিবীকে কিছুটা ঠান্ডা করতে পারে। তবে ধারাবাহিক অগ্ন্যুৎপাতের ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড ও মিথেনের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ বাড়বে, যা উল্টো পৃথিবীকে আরও উষ্ণ করে তুলতে পারে। এতে একটি ‘দুষ্টচক্র’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—তাপমাত্রা বাড়লে বরফ গলবে, বরফ গললে অগ্ন্যুৎপাত বাড়বে, আর তাতেই আবার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে।
গবেষণার নেতৃত্বদানকারী উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলো মোরেনো-ইয়েগা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগ্নেয়গিরিগুলো আরও ঘন ঘন ও বেশি বিস্ফোরকভাবে সক্রিয় হচ্ছে। প্রাগে অনুষ্ঠিত একটি ভূ-রসায়ন সম্মেলনে গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটি বর্তমানে একটি একাডেমিক জার্নালের পর্যালোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সিএ/এমআর


