বারবার গলা পরিষ্কার করতে হচ্ছে—এটিকে অনেকেই তুচ্ছ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। আবার কারও মনে ভয় কাজ করে, এটি কি খাদ্যনালির ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে? এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ। তাঁর মতে, বারবার গলা খাঁকারির সঙ্গে সরাসরি খাদ্যনালির ক্যানসারের সম্পর্ক নেই। তবে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়, কারণ এটি এমন একটি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, যা দীর্ঘদিন করলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ডা. কুনাল সুদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে গলা খাঁকারির সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো সাইলেন্ট অ্যাসিড রিফ্লাক্স। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় লারিঙ্গোফ্যারিঞ্জিয়াল রিফ্লাক্স (এলপিআর)। এই অবস্থায় পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে গলা ও স্বরযন্ত্রে জ্বালা সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে বুকজ্বালার মতো পরিচিত উপসর্গ না থাকায় রোগীরা বুঝতেই পারেন না যে ভেতরে ভেতরে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অ্যাসিডের জ্বালা চলতে থাকলে খাদ্যনালির ভেতরের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সময়ের সঙ্গে এই ক্ষতি থেকে তৈরি হতে পারে ব্যারেটস ওসোফেগাস। এটি নিজে ক্যানসার নয়, তবে খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি বলে মত দেন তিনি।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু উপসর্গ নিয়মিত দেখা গেলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে বারবার গলা খাঁকারি, কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া বা কর্কশ হয়ে যাওয়া, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, কাশি, মুখে টক বা কটু স্বাদ থাকা, অথচ বুকজ্বালার মতো উপসর্গ না থাকা। এসব লক্ষণ অনেক সময় সাইলেন্ট অ্যাসিড রিফ্লাক্সের দিকেই ইঙ্গিত করে।
অ্যাসিড রিফ্লাক্স নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাবার খাওয়া, ঝাল, অতিরিক্ত তেলচর্বি ও টক খাবার এড়িয়ে চলা, খাওয়ার পর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা শুয়ে না পড়া, ঘুমের সময় মাথা সামান্য উঁচু করে রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং অ্যালকোহল সীমিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। উপসর্গ কমে না এলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা হলো—বারবার গলা খাঁকারি মানেই ক্যানসার এমন ধারণা সঠিক নয়। তবে এটিকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। সময়মতো চিকিৎসা ও সচেতন জীবনযাপন করলে ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
সিএ/এমআর


