আমরা প্রতিদিন যে খাবার গ্রহণ করি, তার ভেতরে অদৃশ্যভাবে সিসা বা লেডের মতো ক্ষতিকর উপাদান ঢুকে পড়তে পারে। এটি স্বাদ বা গন্ধে বোঝা যায় না, তবে দীর্ঘদিন শরীরে জমলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসা মূলত মাটি, পানি ও দূষিত পরিবেশের মাধ্যমে খাদ্যে প্রবেশ করে। আগে রং, জ্বালানি, পানির পাইপ ও কিছু রান্নার পাত্রে সিসার ব্যবহার ছিল ব্যাপক। সেসবের অবশিষ্টাংশ এখনো অনেক জায়গায় রয়ে গেছে। ফলে শাকসবজি, ফল ও শস্যের মধ্যেও সিসার উপস্থিতি দেখা যেতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। অল্প অল্প করে শরীরে প্রবেশ করলেও সময়ের সঙ্গে তা কিডনি, স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে শেখার ক্ষমতা কমে যাওয়া, আচরণগত সমস্যা এবং বুদ্ধিমত্তা হ্রাসের ঝুঁকি থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি সিসা গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও কিডনি জটিলতার কারণ হতে পারে।
কিছু মসলা ও আমদানি করা খাবারে সিসার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। তাই খোলা মসলা না কিনে প্যাকেটজাত মসলা কেনা, ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া এবং সিসামুক্ত পাত্রে খাবার সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাসাবাড়ির পুরোনো রঙ, ভাঙা দেয়াল বা দূষিত এলাকার কাছাকাছি সবজি চাষ থেকেও সিসার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সচেতনতা ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবহারের মাধ্যমেই এই নীরব বিষের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
সিএ/এমআর


