পেন্টাগনের নতুন ন্যাশনাল ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চীন আর শীর্ষ নিরাপত্তা অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত নয়। চার বছর পরপর প্রকাশিত এই নথিতে বলা হয়েছে, এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল নিরাপত্তা উদ্বেগ হলো দেশের নিজস্ব ভূখণ্ড এবং পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা।
পেন্টাগন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র দেশগুলোর জন্য ‘আরো সীমিত’ সহায়তা প্রদান করবে। এর আগে গত বছর প্রকাশিত ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি নথিতে বলা হয়েছিল, ইউরোপ ‘সভ্যতাগত পতনের’ মুখে রয়েছে এবং রাশিয়াকে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখানো হয়নি।
শুক্রবার প্রকাশিত ৩৪ পৃষ্ঠার নতুন কৌশলপত্র মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে নেওয়া নীতিগত অবস্থানগুলোকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেন, পূর্ব প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে কথিত মাদকবাহী নৌকায় হামলা চালান এবং মিত্র দেশগুলোর ওপর গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
নথিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, পেন্টাগন পানামা খাল, গালফ অব আমেরিকা এবং গ্রিনল্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, ‘আদর্শবাদী কল্পনা বাদ; কঠোর বাস্তববাদ গ্রহণ’। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে ‘সংঘাত নয়, শক্তির ভিত্তিতে’।
নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনকে আধিপত্যে রাখা বা তাদের শ্বাসরোধ ও অপমান করা লক্ষ্য নয়। আগের কৌশলপত্রগুলোর বিপরীতে এবার তাইওয়ানের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো, চীনসহ কাউকেই যেন যুক্তরাষ্ট্র বা মিত্র দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে।
গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি ঘোষণা করলে চীন দ্বীপটির আশপাশে সামরিক মহড়া চালায়। কৌশলপত্রে মিত্রদের কাছ থেকে আরও বেশি দায়িত্ব ভাগাভাগির আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ অনেক অংশীদার দেশ এতদিন ধরে ওয়াশিংটনকে তাদের প্রতিরক্ষা ভর্তুকি দিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, এটি বিচ্ছিন্নতাবাদের পদক্ষেপ নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা হুমকির প্রতি কেন্দ্রীভূত ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি। বিশেষ করে ইউরোপের মতো মিত্ররা এমন হুমকির বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেবে, যা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর।
রাশিয়াকে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তবর্তী দেশগুলোর জন্য ‘স্থায়ী কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়াকে নিবৃত্ত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ‘আরো সীমিত’ করার কথাও বলা হয়েছে, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া নিজ দায়িত্বে অনেক কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, পুরোনো বিশ্বব্যবস্থা আর ফিরে আসছে না। তিনি মধ্যম শক্তিগুলোকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁও সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব এখন নিয়মহীন এক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে।
সিএ/এএ


