শেষ হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বিপিএলের দ্বাদশ আসর। এবারের টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন। মিডল অর্ডার থেকে শুরু করে ওপেনিং—দুই পজিশনেই রান করে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
গত আসরে একাধিক ব্যাটসম্যান ৪০০ ও ৫০০ রানের মাইলফলক ছুঁলেও এবার কেউই ৪০০ রানের ঘর পার করতে পারেননি। তবে ধারাবাহিকতায় তিনশ বা তার বেশি রান করেছেন পাঁচজন ব্যাটসম্যান। তাদের পারফরম্যান্সই আলোচনায় ছিল পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে।
পারভেজ হোসেন ইমন সিলেট টাইটান্সের হয়ে ১২ ইনিংসে ৩৯৫ রান করেন। তার গড় ছিল ৩৯.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩২.৯৯। আসরের শুরুতে মিডল অর্ডারে খেললেও পরে ওপেনিংয়ে নেমে নিয়মিত রান করেন তিনি। রাজশাহী, নোয়াখালী ও রংপুরের বিপক্ষে তার গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসগুলো দলকে এগিয়ে নেয়। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ায় টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতিও পান ইমন।
রংপুর রাইডার্সের তাওহিদ হৃদয় ১১ ইনিংসে ৩৮২ রান করেন। তার গড় ৩৮.২০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৭.৯০। টুর্নামেন্টের শুরুতে ব্যর্থ হলেও ওপেনিংয়ে ওঠার পর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরেন তিনি। রাজশাহীর বিপক্ষে অপরাজিত ৯৭ ও নোয়াখালীর বিপক্ষে ১০৯ রানের ইনিংস ছিল তার আসরের সেরা পারফরম্যান্স।
রাজশাহীর হয়ে তানজিদ হাসান তামিম ১৩ ইনিংসে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করেন। তার গড় ২৭.৩৮ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৬.৯০। পুরো টুর্নামেন্টে ওঠানামা থাকলেও ফাইনালে ৬২ বলে ১০০ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে দলের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। বিপিএলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনটি সেঞ্চুরির অনন্য রেকর্ডও গড়েন তানজিদ।
একই দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৩ ইনিংসে ৩৫৫ রান করেন। তার গড় ২৯.৯৮ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৫.৪৯। টুর্নামেন্টের শুরুতেই সিলেটের বিপক্ষে অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস খেলে আলোচনায় আসেন তিনি। ধারাবাহিকতা না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখেন শান্ত।
রংপুর রাইডার্সের ইংলিশ ব্যাটসম্যান ডেভিড মালান ৯ ইনিংসে ৩০০ রান করেন। তার গড় ৩৭.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ১১২.৩৫। টুর্নামেন্টের শুরুতে ধারাবাহিক ফিফটি ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করলেও শেষ দিকে কিছুটা ছন্দ হারান তিনি।
সিএ/এএ


