বর্তমান সময়ে বাজারে বিশেষ করে গাড়ির যন্ত্রাংশ ও বিভিন্ন পণ্যের দোকানে অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য পাওয়া যায়, যার উৎস নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব পণ্য চুরি বা অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। ইসলামের দৃষ্টিতে চোরাই পণ্য কেনা বা বিক্রি করা কেবল অনৈতিক নয়, বরং এটি গুরুতর গুনাহ এবং সামাজিক অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত।
ইসলামি আইনে কোনো বিক্রয় চুক্তি বৈধ হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো বিক্রেতার কাছে বিক্রিত পণ্যের বৈধ মালিকানা থাকা। আল–আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহমদ আল-মুসাইয়ার বলেন, যেহেতু চুরিকৃত মাল অন্যের অধিকারভুক্ত, তাই চোর কখনোই এর প্রকৃত মালিক হতে পারে না এবং তার সঙ্গে করা বিক্রয় চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হয়। নবীজির নির্দেশনাও রয়েছে, তোমার নিকট যা নেই, তা তুমি বিক্রয় করো না।
ফকিহগণ চোরাই পণ্য কেনার বিষয়টি তিনটি পর্যায়ে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রথমত, যদি কেউ নিশ্চিতভাবে জানেন যে পণ্যটি চুরি করা, তবে তা কেনা সম্পূর্ণ হারাম এবং এতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি পাপের অংশীদার হন। দ্বিতীয়ত, নিশ্চিত প্রমাণ না থাকলেও পারিপার্শ্বিক অবস্থায় প্রবল ধারণা তৈরি হলে এমন পণ্য কেনাও নিষিদ্ধ। তৃতীয়ত, যদি কোনো সন্দেহের লক্ষণ না থাকে এবং সরল বিশ্বাসে পণ্য কেনা হয়, তবে পরে জানা গেলে প্রকৃত মালিকের হক ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব থাকে।
চোরাই পণ্য কেনা মূলত চোরকে অপরাধে উৎসাহিত করার শামিল। এতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়ে এবং নৈতিক অবক্ষয় ঘটে। কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নেক কাজে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই সন্দেহজনক লেনদেন থেকে দূরে থাকাই তাকওয়ার দাবি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সচেতন মুসলিম ব্যবসায়ী কেবল হারাম থেকেই নয়, বরং যেকোনো সন্দেহজনক লেনদেন থেকেও নিজেকে বিরত রাখেন। এতে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই নিরাপদ থাকে।
সিএ/এমআর


