মানুষ স্বভাবগতভাবেই নিজেকে ভালোবাসে। শরীরের সামান্য কোনো অঙ্গ আঘাতপ্রাপ্ত হলে আমরা বিচলিত হয়ে পড়ি। অথচ এই প্রতিটি অঙ্গই আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অমূল্য নেয়ামত ও আমানত। বিনা মূল্যে পাওয়া এই অঙ্গগুলোর সঠিক ব্যবহার এবং সংরক্ষণ আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কিয়ামতের দিনে এসব অঙ্গের হিসাব দিতে হবে—এ বিষয়টি অনেক সময় আমরা ভুলে যাই।
কোরআনে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে, ‘যে ব্যাপারে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর—এদের প্রতিটিই জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩৬)। এই আয়াত মানুষের প্রতিটি অঙ্গের দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেকেই এই নেয়ামতগুলোর অপব্যবহার করে। কেউ চোখ দিয়ে নিষিদ্ধ বস্তু দেখে, কেউ হাত দিয়ে অন্যায় কাজে জড়ায়, আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বা অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য করে। আল্লাহর দেওয়া অঙ্গগুলোকে তাঁরই নিষিদ্ধ কাজে ব্যবহার করা চরম অকৃতজ্ঞতার শামিল।
কেয়ামতের দিনের ভয়াবহতার কথা কোরআনে আরও এসেছে। আল্লাহ বলেন, ‘আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব, তাদের হাত আমার সঙ্গে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে।’ (সুরা ইয়াসিন, আয়াত: ৬৫)। এমনকি মানুষের চামড়াও সেদিন সাক্ষ্য দেবে বলে উল্লেখ রয়েছে।
বিখ্যাত আলেম ইবনুল জাওজি (রহ.) তাঁর এক মোনাজাতে অঙ্গগুলোর পবিত্রতা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘হে আমার প্রতিপালক, যে জিহ্বা মানুষকে আপনার কথা জানায়, আপনি তাকে শাস্তি দেবেন না। যে চোখ আপনার পথের ইলমের দিকে তাকায়, আপনি তাকে শাস্তি দেবেন না। যে হাত আপনার রাসুলের হাদিস লিপিবদ্ধ করে, আপনি তাকে শাস্তি দেবেন না। আপনার ইজ্জতের কসম! আমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন না।’
মানুষের কর্তব্য হলো আল্লাহর দেওয়া এই আমানতের যথাযথ হেফাজত করা এবং সৎকাজে তা ব্যবহার করা। এর মধ্য দিয়েই দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।
সিএ/এমআর


