আধুনিক করপোরেট জগৎ কিংবা সামাজিক সংগঠনে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে ‘টিমওয়ার্ক’-এর কথা বারবার উঠে আসে। অথচ পবিত্র কোরআন ও নবীদের জীবনীতে বহু আগে থেকেই দলগত কাজের আদর্শিক রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে নবী মুসা ও হারুন (আ.)-এর পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আধুনিক সমাজের জন্য একটি চিরন্তন দৃষ্টান্ত।
মুসা (আ.) নবুয়ত লাভের পর ফেরাউনের মতো শক্তিশালী শাসকের কাছে যাওয়ার দায়িত্ব পেলেও তিনি একা সবকিছু করার দাবি করেননি। নিজের বাক্পটুতার সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে তিনি আল্লাহর কাছে তাঁর ভাই হারুন (আ.)-কে সহকারী হিসেবে পাঠানোর আবেদন করেন। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমার ভাই হারুন, সে আমার চেয়ে অনেক বেশি বাক্পটু; সুতরাং তাকে আমার সঙ্গে সাহায্যকারী হিসেবে পাঠান, যেন সে আমাকে সমর্থন করে।’ (সুরা কাসাস, আয়াত: ৩৪)
এটি নেতৃত্বের বিনয় ও বাস্তবতা স্বীকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইমাম ইবনে কাসির উল্লেখ করেছেন, মুসা (আ.) কেবল হারুনের বাগ্মিতাকেই নয়, বরং তাঁকে নবুয়তের কাজে অংশীদার করার জন্য দোয়া করেছিলেন। এতে বোঝা যায়, যোগ্যতার মূল্যায়ন ও দায়িত্ব ভাগাভাগি করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
বর্তমান সমাজে অনেক সময় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও হীনম্মন্যতার কারণে দলগত কাজ ব্যাহত হয়। কেউ ভালো করলে অন্যরা তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। অথচ নবী মুসা ও হারুন (আ.)-এর আদর্শ আমাদের শেখায়, আমরা সবাই একই দলের অংশ—যেখানে ব্যক্তিগত অহংকারের কোনো স্থান নেই। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্য একটি ভবনের মতো, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮১)
অহংকার মানুষকে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯১) মুসা (আ.) তাঁর ভাইকে শক্তির উৎস হিসেবে দেখেছিলেন, যা আদর্শ টিমওয়ার্কের অনন্য উদাহরণ।
আধুনিক প্রেক্ষাপটে এই শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—নিজের সীমাবদ্ধতা জানা, যোগ্য মানুষকে দায়িত্ব দেওয়া, পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা এবং বৃহত্তর লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়াই প্রকৃত সফলতার পথ।
সিএ/এমআর


