সময়টা ২০২৩ সালের ১২ জুন। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিনটিতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় এবং বরিশালের প্রভাবশালী সেরনিয়াবাত পরিবারের সদস্য। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম।
নির্বাচনের ফলাফলে ফয়জুল করীম পরাজিত হলেও ভোট কারচুপি ও ফলাফল হাইজ্যাকের অভিযোগ আদালতে গড়ায়। তবে নির্বাচনের দিন সরাসরি হামলার শিকার হন তিনি। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রক্তমাখা মুখে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এই ঘটনার কারণে ইসলামী আন্দোলনের কাছে বরিশালকে ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ হিসেবে দেখা হত, যেখানে তাদের শীর্ষ নেতার ওপর হামলা রাজনৈতিক তাত্পর্য সৃষ্টি করে।
এই ঘটনাই পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে কাছাকাছি আনে। হামলার পর জামায়াত, বিএনপি ও অন্যান্য দল নিন্দা জানিয়েছিল, তবে সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ ছিল জামায়াতের। ইসলামী আন্দোলনকে হুমকি ও হামলার কারণে দলটি তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
অভ্যুত্থানের সময়ে ২৪ জুলাই জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার ভিডিও বার্তা এবং প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্র-জনতার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। একই সময় ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও আন্দোলনে যুক্ত হন। এ ঘটনা দুই দলকে আরও কাছাকাছি আনে এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক জোটের ভিত্তি গড়ে তোলে।
এরপর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আহ্বানে দুই দল একসঙ্গে কাজ করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে অন্যান্য দলও এই প্লাটফর্মে যুক্ত হয়। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলন নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জোট বিভিন্ন দাবিতে মাঠে সক্রিয় থাকে।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই জোটে আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়। দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, জামায়াতের আচরণ এবং শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ভিন্নমতের কারণে তারা পৃথক পথে যায়।
লেখক শফিক মুন্সি উল্লেখ করেছেন, বরিশালের সেই নির্বাচনের দিনটিতে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতার ওপর হামলা একটি ছোট ঘটনাকে বড় রাজনৈতিক ঘটনার সূত্রে পরিণত করেছে। এটি দলটিকে নতুন রাজনৈতিক পথচলায় আরেকটি দলের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। যদিও এ সম্পর্ক কম সময় স্থায়ী হয়েছিল, তবে তা ২০২৬ সালের রাজনীতিতেও প্রভাব রেখেছে।
সিএ/এসএ


