ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গত বছর মে মাসে শুরু হওয়া অপারেশন সিঁদুর এখনও অব্যাহত রয়েছে। ইসলামাবাদ দুঃসাহস দেখালে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে চীন ও পাকিস্তানের সামরিক শক্তি বিবেচনায় নিজেদের সামরিক ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এছাড়া কাশ্মীরে সীমান্ত অতিক্রমে ড্রোন অনুপ্রবেশের অভিযোগ নিয়েও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান প্রকাশ করেছেন সেনাপ্রধান।
গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান ভয়াবহ সংঘাতে জড়ায়। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে ভারতের হামলার পর পাকিস্তান পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। নয়াদিল্লির দাবি, ওই অভিযানে পাকিস্তানকে বড় শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, চারদিনের সংঘাতে তারা যথাযথ জবাব দিয়েছে। পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই সংঘাতের প্রভাব এখনও কাটেনি এবং দুই দেশের নেতারা একে অপরকে হুমকি দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও পশ্চিম সীমান্ত ও জম্মু–কাশ্মিরের পরিস্থিতি সংবেদনশীল হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের কোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিম পাশের মোট আটটি ক্যাম্প এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং সেখানে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক অবস্থান করছে।
উপেন্দ্র দ্বিবেদী নিজের দেশের সামরিক দুর্বলতাও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, চীন ও পাকিস্তানকে মোকাবিলায় ভারতের সামরিক ক্ষমতা আরও দৃঢ় করতে হবে। রকেট–ক্যাম–মিসাইল ফোর্স গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। পিনাকা, প্রলয় ও ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এই বাহিনীর মূল শক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।
অপরদিকে, কাশ্মীরে সীমান্ত অতিক্রমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ভারত। সেনাপ্রধান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ড্রোন সীমান্ত অতিক্রম করেছে এবং একটি ড্রোন থেকে অস্ত্র ও গ্রেনেড ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।
এরই মধ্যে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের কালাত জেলায় গোয়েন্দা অভিযানে ভারত-সমর্থিত চার সন্ত্রাসী নির্মূলের দাবি করেছে ইসলামাবাদ। আইএসপিআর জানিয়েছে, নিহতরা ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামের ভারতের সমর্থিত গোষ্ঠীর সদস্য। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘আজমে ইস্তেহকাম’ অভিযানের আওতায় বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাস নির্মূলে অভিযান চলবে।


