আজকের তাড়াহুড়োপূর্ণ জীবনযাত্রায় ভদ্র, সহানুভূতিশীল এবং প্রিয় ব্যক্তি হিসেবে খ্যাত হওয়া কঠিন মনে হলেও, বিশেষজ্ঞরা কিছু বিজ্ঞানসম্মত কৌশল তুলে ধরেছেন যা অন্যের পছন্দনীয় হয়ে ওঠায় সাহায্য করে।
ছোটবেলায় আমরা শিশুদের ‘থ্যাংক ইউ’ বা ‘সরি’ বলা শেখাই। বড় হয়ে মানুষ এমন এক সমাজে প্রবেশ করে, যেখানে তুচ্ছ কারণে গালাগাল, বিদ্রূপ বা অসভ্য আচরণ খুবই সাধারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভদ্র ও সহানুভূতিশীল হওয়া মানে হলো—আপনি যাদের সঙ্গে মেলামেশা করছেন, তাদের প্রতি সদয় মনোভাব রাখা এবং ধরে নেওয়া যে তারা জীবন থেকে আনন্দ ও পরিপূর্ণতা চায়, যেমনটা আপনি চান।
ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলির গ্রেটার গুড সায়েন্স সেন্টারের এমিলিয়ানা সাইমন-টমাস বলেন, ‘মানুষের মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি, যখন আমরা অন্যের জন্য ভালো কিছু করি, তখন আনন্দের অনুভূতি তৈরি হয়। এতে আনন্দের সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের অংশ সক্রিয় হয়।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভদ্র ব্যবহার করে অন্যের পছন্দনীয় হয়ে ওঠার কিছু কার্যকর উপায় হলো:
১. মিল খোঁজা: অন্যের সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে মিল খুঁজুন—পোশাক, ভঙ্গি, কণ্ঠস্বর বা অভ্যাসে মিল থাকলে সহানুভূতি তৈরি হয় এবং আলাদা জগতের মানুষের সঙ্গেও ভদ্র আচরণ সহজ হয়।
২. উপকার করা: অন্যকে সাহায্য করা যেমন স্বেচ্ছাসেবক কাজ, দান, রক্তদান বা রান্না করা—এগুলো সম্পর্ক গড়ে তুলতে কার্যকর।
৩. মন দিয়ে শোনা: কারও কথা মন দিয়ে শুনে তা বোঝানো গুরুত্বপূর্ণ। চোখে চোখ রেখে কথা বলা, সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকে থাকা—এসব ইঙ্গিত দেয় আপনি মনোযোগী।
৪. ভালো প্রশ্ন করা: এমন প্রশ্ন করুন যার উত্তর আগে জানতেন না। এতে অপর পক্ষ বুঝবে আপনি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজের গল্প বলা এড়ান।
৫. হাসি—মন থেকে: খাঁটি হাসি সম্পর্ককে দৃঢ় করে। নকল হাসি কার্যকর হয় না। অপরিচিত কারও সঙ্গে হাসি বিনিময় করলে বিশ্বাস ও স্বস্তি তৈরি হয়।
৬. বিরক্তিকর মুহূর্তে হালকা থাকা: বিব্রতকর পরিস্থিতি যেমন লম্বা লাইনে দাঁড়ানো, বিরক্তিকর মুহূর্তে হালকা রসিকতা করা সম্পর্ককে সুন্দরভাবে মোলায়েম করে।
৭. মানুষের নাম ব্যবহার করা: কারও নাম মনে রাখা ও ব্যবহারে শক্তিশালী সদয় ইঙ্গিত তৈরি হয়। নাম ধরে ডাকলে বোঝায় আপনি তাকে চেনেন ও গুরুত্ব দেন।
৮. মতের পার্থক্য স্বীকার করা: যাদের সঙ্গে আপনার মত মিল নেই, তাদের জন্য স্থান রাখুন। প্রথমে মিল থাকা বিষয়ে কথা বলুন। মতবিরোধ অস্বীকার না করে ভবিষ্যতের গঠনমূলক আলাপের ভিত্তি তৈরি করা যায়। সাইমন-টমাস বলেন, ‘মানুষ চাইলে নিজের বিশ্বাসকে সম্মান করে ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে পারে।’
সিএ/এমআর


