গাজার প্রশাসনিক ক্ষমতা ছেড়ে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।
সংগঠনটির দাবি, আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত যুদ্ধবিরতির কাঠামোর মধ্যেই তারা গাজার প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও গাজার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাসেম নাঈম বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের পর যুদ্ধবিরতি একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনায় পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে হামাস গাজার সরকারি প্রশাসন থেকে পুরোপুরি সরে যেতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।
একই সঙ্গে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন বাসেম নাঈম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি ছাড়া এ ধরনের সামরিক অভিযান সম্ভব নয়।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে গাজায় হামলা থামেনি। স্থানীয় সময় শনিবার গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এর আগের বৃহস্পতিবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। নুসেইরাত ও বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে আবাসিক ভবনে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া রাফাহ, আল-মাওয়াসি এবং গাজা সিটির আসকুলা এলাকাতেও হতাহতের তথ্য মিলেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এসব হামলা চালানো হয়। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গাজা থেকে রকেট নিক্ষেপের ব্যর্থ চেষ্টার পর পাল্টা হামলা হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। তীব্র শীত এবং ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশে বাধার কারণে দেইর আল-বালাহ এলাকায় সাত দিনের এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় তাঁবু ও নির্মাণসামগ্রী ঢুকতে না দেওয়ায় হাজারো মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত অথবা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
সিএ/এসএ


