প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে বিক্ষোভ করছেন পরীক্ষার্থীরা। পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ঘেরাও করে সেখানে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী পরীক্ষার্থীরা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় পরীক্ষার্থীরা নানা স্লোগানের মাধ্যমে পরীক্ষায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে ধরে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানান। আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
প্রশ্নফাঁস ও ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন একদল নিয়োগপ্রত্যাশী। একই সঙ্গে তারা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ, সকল চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় আয়োজন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার স্থাপন।
আন্দোলনকারীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করে তার আওতায় সব পরীক্ষা গ্রহণ এবং একই দিনে একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা না নেওয়া। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতীতে প্রশ্নফাঁসের রেকর্ড রয়েছে, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব না দেওয়ার দাবি জানানো হয়। প্রশ্নফাঁস প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা এবং প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার দাবিও তোলা হয়।
জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে এবং ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন শেয়ার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার দুই দিন আগে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের কিছু অংশ থেকে হুবহু কয়েকটি প্রশ্ন পরীক্ষায় এসেছে। এতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। তাদের দাবি, ২৫ ডিসেম্বর প্রশ্নপত্র জেলা পর্যায়ে পাঠানো হলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পর পরীক্ষা নেওয়ায় প্রশ্নপত্র অসাধু চক্রের হাতে চলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবার দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি। তবে ঠিক কতজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং কতজন অনুপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি অধিদফতর।
সূত্র: শিক্ষা সময়
সিএ/এসএ


