ঢাকার বাইরে উত্তরাঞ্চলে প্রথমবারের মতো বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টে সাফল্যের দাবি করেছে বগুড়ার টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে বগুড়ার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায়। উদ্বোধনের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় সেখানে একজন রোগীর সফলভাবে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সেন্টার সূত্রে জানা যায়, রংপুরের ভান্ডাবাড়ি এলাকার ৬০ বছর বয়সী মো. মিজানুর রহমান উদ্বোধনের পরপরই ওই সেন্টারে ভর্তি হন। তাঁর রোগ শনাক্ত হয়েছিল ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। একই বছরের ডিসেম্বরে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। গত বছরের আগস্ট মাসে পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাঁর জন্য স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্টের সিদ্ধান্ত নেন। সেই ধারাবাহিকতায় টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারে তাঁর বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা হয়।
এই চিকিৎসা কার্যক্রমটি সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, এটি উত্তরাঞ্চলে জটিল রক্তরোগের চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
রোগী মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভোগান্তি ও ব্যয়ের কথা চিন্তা করে একসময় আমি চিকিৎসার হাল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। টিএমএসএসে ভর্তির পর চিকিৎসকেরা সফলভাবে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করেছেন। এতে আবার সুস্থভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিএমএসএসের উপনির্বাহী পরিচালক মো. মতিউর রহমান, টিএমএসএস হেমাটোলজি ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের চিফ কনসালট্যান্ট আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ এবং টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মো. মতিউর রহমান বলেন, ঢাকার বাইরে উত্তরবঙ্গে প্রথমবারের মতো সফলভাবে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হলো। এটি শুধু টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের অর্জন নয়; বরং উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এ সাফল্যের মাধ্যমে তাঁরা উত্তরাঞ্চলবাসীর কাছে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার বার্তা পৌঁছে দিতে চান।
অধ্যাপক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ জানান, এই সাফল্যের ফলে উত্তরবঙ্গসহ আশপাশের অঞ্চলের রোগীরা তুলনামূলক কম খরচে ও সহজে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টসহ আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন। এতে রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীলতা কমবে বলে তিনি মনে করেন।
সিএ/এমআর


