শিরোপা জিততে না পারলেও ২০২৫ সালকে ম্যানচেস্টার সিটিতে নিজের অন্যতম সেরা বছর হিসেবে দেখছেন কোচ পেপ গার্দিওলা। চোট-আঘাতে জর্জরিত একটি কঠিন মৌসুম পার করেও দলের লড়াই, মানসিক দৃঢ়তা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তাকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করেছে বলে জানিয়েছেন স্প্যানিশ এই কোচ।
গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ম্যানচেস্টার সিটি। এ ছাড়া এফএ কাপের ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জেতা হয়নি, রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় দলটিকে। পুরো মৌসুমজুড়ে একের পর এক চোটে পড়েন দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা। মাঝমাঠের প্রাণভোমরা রদ্রিসহ বেশ কয়েকজন তারকা দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের মানসিকতা ও লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন গার্দিওলা। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক সমস্যা অতিক্রম করতে হয়েছে। যেসব খেলোয়াড় তখন দলে ছিল, তাদের নিয়েই আমরা লড়াই চালিয়ে গেছি। এখন পেছনে তাকালে মনে হয়, এই মৌসুমটা আমাদের অন্যতম সেরা। ক্লাব হিসেবে আমরা যা করেছি, তা নিয়ে আমি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গর্বিত।’
মৌসুমের মাঝপথে খেলোয়াড় সংকট কাটাতে শীতকালীন দলবদলের বাজারে সক্রিয় হতে বাধ্য হয় ম্যানচেস্টার সিটি। ওমর মারমুশ, আব্দুকোদির খুসানোভ, ভিতোর রেইস ও নিকো গঞ্জালেজকে দলে ভেড়ানো হয়। শুরুতে এই সময়ে দলবদলের কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলে জানান গার্দিওলা। তিনি বলেন, ‘ওই খেলোয়াড়রা না এলে হয়তো আমরা এখন চ্যাম্পিয়নস লিগের চারে থাকতাম না।’ তাঁর মতে, মৌসুমের শেষ ১০ থেকে ১৫ ম্যাচে সিটিই ছিল প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে শক্তিশালী দল।
২০২৫ সালে অর্জিত পয়েন্টের হিসেবে বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। যদিও প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় দুটি ম্যাচ কম খেলেছে দলটি। চলতি মৌসুমে আর্সেনালের থেকে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও একটি ম্যাচ হাতে রয়েছে গার্দিওলার শিষ্যদের। নতুন বছরের প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ সান্ডারল্যান্ড।
এদিকে দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে দলে ফেরার পথে রয়েছেন রদ্রি। অক্টোবরে হাঁটুর চোটে পড়ার পর নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন তিনি। গার্দিওলা বলেন, ‘রদ্রি থাকলে আমরা অবশ্যই আরো শক্তিশালী দল। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে যেন সুস্থ থাকে এবং মানসিকভাবে ভালো থাকে।’
সিএ/এএ


