যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবন নিয়ে তৈরি নতুন প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক ব্রেট র্যাটনারকে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। এ সময় কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনও উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত কিছু ছবিতে এ দৃশ্য ধরা পড়ে।
ছবিতে দেখা গেছে, ‘রাশ আওয়ার’ এবং ‘এক্স-ম্যান: দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’-এর পরিচালক র্যাটনার সোফায় বসে আছেন এপস্টেইনের পাশে। সেখানে দুজন থাই নারীও উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। ছবিগুলো ঠিক কখন তোলা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে গত ডিসেম্বরে র্যাটনার, এপস্টেইন ও প্রয়াত ফরাসি মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেলের ছবি প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলোও সম্ভবত একই স্থানে তোলা।
নথিপত্রে র্যাটনারের সরাসরি কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। বিবিসি এ বিষয়ে তাঁর প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে।
এপস্টেইন ফাইল হলো জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে নারী পাচারের অভিযোগ সংবলিত নথিপত্র, যা ২০১৯ সালে বিচারাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। নতুন প্রকাশিত ছবিগুলোতে র্যাটনার, এপস্টেইন এবং ব্রুনেল বিভিন্ন নারীর সঙ্গে স্বচ্ছন্দ ও হাসিখুশি অবস্থায় আছেন। তবে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে নারীদের পরিচয় আড়াল করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীদের একজন আইনজীবী জানিয়েছেন, নথি প্রকাশের সময় অনেক নারীর পরিচয় অসাবধানতাবশত ফাঁস হয়ে গেছে।
মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রামাণ্যচিত্র ‘মেলানিয়া: টুয়েন্টি ডেস টু হিস্টোরি’ প্রিমিয়ার অনুষ্ঠান ২৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। সিনেমাটি সমালোচকদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পায়নি এবং এর অর্থায়ন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
র্যাটনার ২০১৭ সালে ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলনের পর যৌন হেনস্থার অভিযোগে আলোচিত হন। তিনি সব সময়ই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
শুক্রবারের নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে ধনকুবের ইলন মাস্ক, বিল গেটস, লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন এবং অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্কের নতুন তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। ডিউক অব ইয়র্ক অ্যান্ড্রুর একটি ছবিতেও দেখা গেছে, যেখানে তিনি মাটিতে শুয়ে থাকা এক নারীর ওপর হামাগুড়ি দিচ্ছেন। এ কারণে তার রাজকীয় পদবি আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
এছাড়া এপস্টেইনের অর্থে মডেলিং এজেন্সি চালানোর অভিযোগে জঁ-লুক ব্রুনেলের বিরুদ্ধেও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারের অভিযোগ ছিল। ২০২২ সালে তিনি প্যারিসের কারাগারে আত্মহত্যা করেন।
সিএ/এমই


