ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যার বেশি হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউট (এসএমভিডিএমআই) বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ভারতের চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (এনএমসি) ৬ জানুয়ারি কলেজটির স্বীকৃতি বাতিলের ঘোষণা দেয়। কলেজটি জম্মু বিভাগের রিয়াসি জেলায় পীর পাঞ্জাল পর্বতমালার কাছে অবস্থিত।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজের প্রথম এমবিবিএস ব্যাচে ভর্তি ৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জন মুসলিম, ৭ জন হিন্দু ও ১ জন শিখ। কলেজটি হিন্দু ধর্মীয় দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলেও আংশিকভাবে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত। প্রতি বছর ভারতের দুই মিলিয়নের বেশি শিক্ষার্থী ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) পরীক্ষায় অংশ নেয়। যারা সরকারি কলেজে ভর্তি হয় না, তারা বেসরকারি কলেজে ভর্তি হয়।
কলেজের প্রথম ব্যাচে কাশ্মীরের শিক্ষার্থী সানিয়া জান, যিনি বারামুল্লা জেলার ১৮ বছর বয়সী, নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। কলেজ বেছে নেওয়ার কারণ ছিল দূরত্ব ও সুবিধা। তবে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়া খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো বিক্ষোভ শুরু করে। তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের দাবি তোলে। বিজেপির কয়েকজন বিধায়কও লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কাছে চিঠি দিয়ে কলেজে শুধু হিন্দু শিক্ষার্থী ভর্তি করার দাবি জানান।
ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন জানিয়েছে, কলেজে শিক্ষক সংকট, হাসপাতালের শয্যা ব্যবহারে ঘাটতি, বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা কম, লাইব্রেরি ও অপারেশন থিয়েটারের সমস্যা রয়েছে। ৭ জানুয়ারি কলেজ পরিচালনার অনুমতিপত্রও প্রত্যাহার করা হয়। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা কোনো বড় ঘাটতি দেখেননি। জাহান নামের শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার মনে হয়নি কলেজে সুযোগ-সুবিধার অভাব ছিল। আমরা অন্য কলেজও দেখেছি, অনেক কলেজে এক ব্যাচে একটি কঙ্কাল থাকে, এখানে চারটি ছিল।’
জম্মুভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাফর চৌধুরী প্রশ্ন তুলেছেন, অনুমোদনের পর কীভাবে হঠাৎ এত ঘাটতি দেখা দিল। তিনি বলেন, ‘হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি অযৌক্তিক। ভারতে মেডিকেল কলেজে ভর্তি ধর্মনিরপেক্ষ নিয়মে হয়।’
কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, এসএমভিডিএমআই-এর শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। তারা অন্য মেডিকেল কলেজে পুনর্বাসিত হবেন। তিনি বলেন, ‘এরা নিট পাস করেছে। আইন অনুযায়ী তাদের পুনর্বাসন আমাদের দায়িত্ব।’
সিএ/এসএ


