পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চার দেশের বৈঠকের পর চীনের রাজধানী বেইজিং সফরে গেছেন। এই সফরের উদ্দেশ্য হলো ইরান পরিস্থিতি নিয়ে চীনের সঙ্গে আঞ্চলিক সমন্বয় ও কৌশলগত আলোচনা করা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং সফরে ইসহাক দার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর গভীর আলোচনা’ করবেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, ইরান বিষয়ে চীন ও পাকিস্তান তাদের সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। দুই দেশ ‘সব সময়ের কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমন্বয় বৃদ্ধি করবেন।
এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, বেইজিং বৈঠকে সম্ভাব্য সংলাপের কাঠামো ও মূলনীতি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার জন্য সহায়ক হবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, চলতি বছর এটি ইসহাক দারের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বেইজিং সফর। উভয় নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন।
ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোকাদ্দম স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তানের উদ্যোগ ও সদিচ্ছা প্রশংসনীয়।”
গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে চার দেশের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উত্তেজনা প্রশমন এবং সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ইসহাক দার বৈঠকের পর আভাস দিয়েছিলেন, পাকিস্তান শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে পারে। ইসলামাবাদ এখন মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যস্থতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
সিএ/এমই


