মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে সেনাপ্রধান (চিফ অব স্টাফ) জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে পদত্যাগ করতে বলেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিবিসি বাংলা।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে জানান, মার্কিন সেনাবাহিনীর ৪১তম চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জ শিগগিরই তার পদ থেকে অবসরে যাচ্ছেন। ২০২৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাকে এই পদে মনোনীত করেছিলেন। যদিও সাধারণত সেনাপ্রধানের মেয়াদ চার বছর হয়, মাত্র দুই বছরের মাথায় তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তবে তাকে কেন পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ করা হয়নি। জেনারেল জর্জ এর আগে প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ ছাড়াও ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে পদাতিক কর্মকর্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তার অপসারণের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কাঠামোয় বড় ধরনের পুনর্গঠন করেছেন। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ হলো পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একটি প্যানেল, যারা প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সামরিক বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকে।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বক্তব্যে একজন উচ্চপদস্থ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, তারা জেনারেল জর্জের সেবার জন্য কৃতজ্ঞ হলেও এখন নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার সময় এসেছে। একইভাবে পেন্টাগনের মুখপাত্র পার্নেল বলেন, জাতির প্রতি জেনারেল জর্জের কয়েক দশকের সেবার জন্য তারা কৃতজ্ঞ এবং তার অবসর জীবনের জন্য শুভকামনা জানানো হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, জেনারেল জর্জের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অব স্টাফ জেনারেল ক্রিস্টোফার লানিভকে ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে এবং তার অভিজ্ঞতার ওপর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পেন্টাগনের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে একের পর এক রদবদল করে আসছেন। এ পর্যন্ত তিনি এক ডজনেরও বেশি উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন।
সিএ/এএ


