শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) চাঁদের উদ্দেশ্যে মানুষের নতুন যাত্রায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে আর্টেমিস-২ মিশন। মিশনে থাকা চার নভোচারী পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে এখন চাঁদের পথে যাত্রা শুরু করেছেন। তাদের বহনকারী ওরিয়ন মহাকাশযানটি প্রধান ইঞ্জিন চালিয়ে সফলভাবে চাঁদের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
প্রায় ৫ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড ধরে প্রধান ইঞ্জিন চালানোর মাধ্যমে মহাকাশযানটি ট্রান্সলুনার ইনজেকশন বা টিএলআই ধাপে প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওরিয়ন পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ সীমা অতিক্রম করে চাঁদের কক্ষপথের দিকে এগিয়ে যায়। নাসার ড. লরি গ্লেজ জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মহাকাশযান থেকে কানাডার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, ‘আমরা এখন চাঁদের পথে। এখানে আমরা বেশ ভালো আছি।’
এই মিশনের অংশ হিসেবে মহাকাশযানটি চাঁদের দূরবর্তী প্রান্ত ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম কোনো মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে যাত্রা করলো। সরাসরি সম্প্রচারে দেখা গেছে, মহাকাশযানটি দূরে সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী ছোট নীল-সাদা গোলকের মতো দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। হ্যানসেন বলেন, ‘মানুষ আবারও দেখিয়েছে আমরা কী করতে পারি। ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনাদের আশাই আমাদের এগিয়ে নিচ্ছে।’
এর আগে প্রায় একদিন ধরে নভোচারীরা ‘হাই আর্থ অরবিট’-এ অবস্থান করেন। এ সময় ওরিয়নের ইঞ্জিন, নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং জীবনধারণের প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়। সবকিছু সন্তোষজনক হওয়ায় অনুমোদন দেওয়া হয় চাঁদের পথে যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ টিএলআই সম্পন্ন করার।
ওরিয়নের সার্ভিস মডিউলে থাকা প্রধান ইঞ্জিন দীর্ঘ সময় চালানোর ফলে মহাকাশযানের গতি ঘণ্টায় হাজার কিলোমিটারের বেশি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে এটি এমন এক পথে প্রবেশ করে, যেখানে আগে কখনো মানুষ যায়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভোচারীরা চাঁদের থেকেও প্রায় ৭ হাজার ৬০০ কিলোমিটার বেশি দূরত্বে পৌঁছাবেন এবং পরে মহাকর্ষীয় টানে আবার পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবেন।
নাসা জানিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এই মিশনটি ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো ১৩ মিশনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে টিএলআই-এর পরও মহাকাশযানকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রথম ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসা সবচেয়ে দ্রুত ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। নভোচারীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে বহুবার সিমুলেশন চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহাকাশযানটি যত দূরে যাচ্ছে, ততই পরিবর্তিত হচ্ছে দৃশ্যপট। পেছনে পৃথিবী ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে, আর সামনে চাঁদ ধীরে ধীরে বড় হয়ে তার গহ্বরপূর্ণ পৃষ্ঠ নিয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে। মিশনের ষষ্ঠ দিনে নভোচারীরা একটি বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হবেন, যখন চাঁদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। তখন চাঁদ সূর্যের সামনে অবস্থান নেবে এবং চারপাশে আলোর বলয় তৈরি হবে, পাশেই দৃশ্যমান থাকবে পৃথিবী।
সিএ/এএ


