মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইরানের ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের আল-খার্জে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালায়। তবে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘাঁটির দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে শায়বাহ তেলক্ষেত্রের দিকে অগ্রসর হওয়া ছয়টি ড্রোনও ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর আগে রিয়াদের পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে তেহরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, শনিবার দেশটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিহত করেছে। তবে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল বা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু কী ছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এর আগে শুক্রবার ইরান থেকে ছোড়া ১০টি ড্রোনের মধ্যে ৯টি ধ্বংস করা হলেও একটি ড্রোন প্রত্যন্ত এলাকায় অবতরণ করে বলে দাবি করেছে কাতার।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে শোনা যাওয়া বিস্ফোরণের শব্দগুলো মূলত এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার ফল বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সেখানে একটি মার্কিন উপগ্রহ যোগাযোগ কেন্দ্র, প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং অগ্নি নিয়ন্ত্রণ রাডারে আঘাত হানা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি আমিরাত কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনার পর বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। অনলাইন এয়ারলাইন ট্র্যাকার ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, দুবাইগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিমানবন্দরের ওপর হোল্ডিং প্যাটার্নে ঘুরছিল। দুবাই সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, একটি ভূপাতিত করার ঘটনায় কিছু ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তা অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এমিরেটস এয়ারলাইন্স সাময়িকভাবে দুবাইগামী ও দুবাই থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইট স্থগিত করে। পরে আংশিকভাবে আবার ফ্লাইট চালু করা হয়। একই সময়ে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিকটতম নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সাইরেন বাজানো হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
সিএ/এসএ


