ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্যাকেজ আটকে যাওয়াকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঋণ অনুমোদনে বাধা দেয়ার অভিযোগ তুলে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইনডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলেনস্কি সরাসরি অরবানের নাম উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ একজন ব্যক্তি আটকে রেখেছেন। এই বাধা দ্রুত তুলে না নিলে তিনি সেই ব্যক্তির ঠিকানা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে দিতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহায়তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কিয়েভ। ইউক্রেনের দাবি, চলমান যুদ্ধে রাষ্ট্রীয় বাজেটের বড় অংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হওয়ায় দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে আন্তর্জাতিক সহায়তা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হাঙ্গেরি রাশিয়ার তেল সরবরাহ নিয়ে বিরোধের জেরে এই সহায়তা প্যাকেজ আটকে দিয়েছে। দ্রুজবা পাইপলাইনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটকে ঘিরেই এই বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান বলেন, ইউক্রেন যদি তেল সরবরাহে বাধা দেয়, তাহলে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে সেই বাধা ভেঙে দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘কোনো চুক্তি না হলে কোনো সমঝোতাও নয়।’
বিশ্লেষকদের মতে, জেলেনস্কি ও অরবানের মধ্যে এই উত্তেজনা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে আগামী ১২ এপ্রিল নির্বাচনের মুখে থাকা অরবান এখন পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে সরাসরি রাশিয়ার সমালোচনা এড়িয়ে চলছেন, যা ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
হাঙ্গেরির দাবি, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে দ্রুজবা পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপে রুশ তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে ইউক্রেনের জন্য আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ এবং রাশিয়ার ওপর নতুন ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞাও আটকে দিয়েছে দেশটি।
অন্যদিকে কিয়েভ বলছে, জানুয়ারিতে রাশিয়ার হামলায় পাইপলাইনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ চলছে এবং সোভিয়েত আমলের ওই পাইপলাইন দেড় মাসের মধ্যেই আবার চালু করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
এদিকে যুদ্ধবন্দি ইস্যুতেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া বুদাপেস্টের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে দ্বৈত হাঙ্গেরীয় নাগরিকত্বধারী দুই ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দিকে হাঙ্গেরিতে স্থানান্তর করেছে। কিয়েভের মতে, এটি জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন এবং ইউক্রেন ও ইউরোপের সম্পর্ক দুর্বল করার উদ্দেশ্যে রাশিয়ার হাইব্রিড আগ্রাসনের অংশ।
তবে রাশিয়ার দাবি, ওই দুই বন্দিকে জোরপূর্বক ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং হাঙ্গেরির অনুরোধেই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে যুদ্ধবন্দি হস্তান্তর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
সিএ/এসএ


