ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দেশটির বিভিন্ন স্থানে একাধিক হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়েছে। এতে একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা কাঠামো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু কি না—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজধানী তেহরানে যেসব স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে, তার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানও রয়েছে বলে দেশটির একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। এতে খামেনির নিরাপত্তা ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের উত্তরের শেমিরান এলাকায় অবস্থিত প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের কাছে এবং খামেনির কার্যালয়ের আশপাশে শনিবার সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। একই ধরনের তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, তেহরানে খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকাতেও হামলা হয়েছে।
হামলার পরপরই খামেনির অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট কোনো সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হামলার সময় খামেনি তেহরানে ছিলেন না এবং তাকে আগেই নিরাপদ একটি স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের জনগণের উদ্দেশে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা কাজ শেষ করলে আপনারাই সরকার দখল করুন। এটি সম্ভবত বহু প্রজন্মের মধ্যে আপনাদের একমাত্র সুযোগ।’
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির কার্যালয়ের আশপাশে হামলার ঘটনা ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রকে সরাসরি বার্তা দেওয়ার কৌশল হতে পারে। এতে দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সিএ/এএ


