ব্রাজিলের বিস্তীর্ণ আমাজন জঙ্গলে বন উজাড়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে উজাড়ের হার কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিবেশবিদ, গবেষক এবং সরকারি সংস্থাগুলো বলছে, কঠোর নজরদারি, টহল বৃদ্ধি ও নতুন সংরক্ষণ নীতির ফলেই এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
আমাজনকে পৃথিবীর ‘ফুসফুস’ বলা হয়, কারণ বৈশ্বিক অক্সিজেনের বড় অংশ এখানকার বিশাল বৃক্ষরাজি উৎপাদন করে। বহু বছর ধরে কৃষি সম্প্রসারণ, অবৈধ কাঠ ব্যবসা ও খনির কারণে বন উজাড় ভয়াবহভাবে বেড়ে যাচ্ছিল। তবে নতুন প্রশাসনের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতি বদলে দিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বনভূমি সুরক্ষায় নজরদারি কাজে ড্রোন ব্যবহার, স্যাটেলাইট মনিটরিং এবং পরিবেশ অপরাধ দমনে জরিমানা বৃদ্ধি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
আমাজন অঞ্চলে বন উজাড় কমায় পরিবেশের জন্য স্বস্তির বার্তা মিলেছে। বন উজাড় কমলে কার্বন নিঃসরণও কমবে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ছাড়া স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ও তাদের আবাসস্থল রক্ষা করতে সহায়তা পাচ্ছে, যা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।
তবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। কারণ আমাজনের ওপর আগ্রাসন এখনও পুরোপুরি থামেনি। উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: —
সিএ/এসএ


