ভারতের মেঘালয়ের পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় জেলায় একটি কথিত ‘অবৈধ’ কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে থাংস্কু এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে ঠিক কতজন শ্রমিক ছিলেন তা এখনও নিশ্চিত নয়, এবং আরও অনেকে ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মেঘালয়ের পুলিশের মহাপরিচালক আই নংরাং বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত ১৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। বিস্ফোরণের সময় কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন সে বিষয়ে এখনও পরিষ্কার তথ্য নেই। আরও অনেক শ্রমিক আটকা থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছি।” তিনি জানান, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।
এদিকে পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড়ের পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট বিকাশ কুমার জানান, বিস্ফোরণে আহত এক শ্রমিককে প্রথমে সুতঙ্গা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলংয়ে পাঠানো হয়। খনিটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, মনে হচ্ছে তাই।” বিস্ফোরণের কারণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, মেঘালয়ে ২০১৪ সালে জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) র্যাট-হোল বা ইঁদুর-গর্ত পদ্ধতির কয়লাখনন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরিবেশগত ক্ষতি এবং শ্রমিকদের মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এই খনন পদ্ধতিতে সাধারণত ৩–৪ ফুট উঁচু সরু সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়, যেখানে শ্রমিকরা নিচু হয়ে কয়লা উত্তোলন করেন। প্রতিটি সুড়ঙ্গ এতটাই সংকীর্ণ যে একজন মানুষ কেবল কষ্ট করে প্রবেশ করতে পারেন, তাই একে ‘ইঁদুর-গর্ত খনি’ বলা হয়।
পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এনজিটির এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে এবং পরিবেশগত সুরক্ষা ও বৈজ্ঞানিকভাবে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতির আওতায় খনির অনুমোদন দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যেও বহু স্থানে অবৈধ খনন হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ওঠে, এবং সাম্প্রতিক এই বিস্ফোরণ সেই অনিয়মের আরেকটি দুঃখজনক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিএ/এসএ


