যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগের পর এবার রাশিয়ার আস্থা অর্জনের পথে এগোচ্ছে সিরিয়া। দেশটির নতুন নেতৃত্ব মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার বার্তা দিলেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্টভাবে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নিশ্চয়তা চাইছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে তারা রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন বাস্তবতায় পুনর্নির্ধারণ করতে চায়। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে মস্কো এখন মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছ থেকে আগের চেয়ে বেশি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করছে।
রাশিয়ার দৃষ্টিতে সিরিয়া কেবল একটি আঞ্চলিক মিত্র নয়, বরং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তাদের সামরিক উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। লাতাকিয়ায় রাশিয়ার নৌঘাঁটি ও হামিমিম বিমানঘাঁটির নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের নিশ্চয়তা পুতিন প্রশাসনের প্রধান আগ্রহের বিষয়। এ ছাড়া সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রুশ স্বার্থবিরোধী কোনো শক্তিকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়েও আশ্বাস চায় মস্কো।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সিরিয়া এখন এমন এক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—উভয়ের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হচ্ছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিলেও মস্কোর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে তা সিরিয়ার নিরাপত্তা ও সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই রাশিয়ার আস্থা ধরে রাখাই দামেস্কের বর্তমান কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সিরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে পূর্বের চুক্তিগুলো সম্মান করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তবে পুতিন প্রশাসন এসব প্রতিশ্রুতিকে লিখিত ও কার্যকর নিশ্চয়তায় রূপ দিতে আগ্রহী, যাতে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনে রুশ স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
সিএ/এসএ


