মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচনে জয়ের দাবি করেছে জান্তা-সমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। তবে এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হিসেবে মানতে নারাজ দেশি-বিদেশি সমালোচক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
এদিকে নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ফর্টিফাই রাইটস। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক জনগণ ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী দমনে সাম্প্রতিক সময়ে প্যারামোটর ও জাইরোকপ্টার ব্যবহার করে আকাশপথে হামলা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। কম খরচে সহজলভ্য এসব উড়োজাহাজ নিচু দিয়ে উড়তে সক্ষম হওয়ায় লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানো সহজ হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রথম প্যারামোটর হামলার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ২০২৫ সালের মার্চে প্রথম জাইরোকপ্টার হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে গত বছরের অক্টোবরে সাগাইং অঞ্চলে। সেখানে নির্বাচনবিরোধী এক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে প্যারামোটর থেকে নিক্ষিপ্ত মর্টার শেলে অন্তত ২৪ জন নিহত হন। একই এলাকায় একটি হাসপাতালে জাইরোকপ্টার হামলায় প্রধান চিকিৎসকসহ আরও তিনজন প্রাণ হারান।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৩৫০টি প্যারামোটর ও জাইরোকপ্টার হামলা চালানো হয়েছে। এর বেশিরভাগ হামলাই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। সাগাইং, ম্যাগওয়ে, মান্দালয়, আয়েওয়ার্দ্দি ও বাগো অঞ্চল এসব হামলার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৭ হাজার ৭শর বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাজনৈতিক বন্দিদের সহায়তাকারী সংস্থা এএপিপি।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেছে ইউএসডিপি। দলটির দাবি, রাজধানী নেপিদো ও মান্দালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় তিন ধাপে অনুষ্ঠিত ভোটে তারা উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছে। ইউএসডিপির তথ্যমতে, শেষ ধাপে নিম্নকক্ষের ৬১টি আসনের মধ্যে ৫৭টিতেই তাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তবে ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ৬৭টিতে ভোটই অনুষ্ঠিত হয়নি, যার বেশিরভাগ এলাকা বিরোধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই ফলাফল প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং এ বিষয়ে পাল্টা অবস্থান নিয়ে বলেন, দেশের ভেতরের ভোটই চূড়ান্ত এবং বিদেশি স্বীকৃতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নন।
সূত্র: রয়টার্স
সিএ/এসএ


