জাপানের টোকিও শহরের উয়েনো চিড়িয়াখানায় শেষবারের মতো পান্ডা দেখার জন্য দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দিনভর পান্ডা ভক্তরা চিড়িয়াখানায় জড়ো হন চার বছর বয়সী যমজ বিশাল পান্ডা জিয়াও জিয়াও ও লেই লেইকে বিদায় জানাতে। চলতি মাসের শেষ দিকে এ দুটি পান্ডাকে চীনে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে।
উয়েনো চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম জাপানে কোনো পান্ডা থাকবে না। এ কারণে পান্ডা দেখার শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে হাজার হাজার মানুষ লটারি টিকিটের জন্য আবেদন করেছেন। দর্শনার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়, অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে পান্ডাদের সঙ্গে কাটানো স্মৃতির কথা স্মরণ করেন।
৫৪ বছর বয়সী দর্শক মাচিকো সেকি বলেন, ‘জিয়াও জিয়াও ও লেই লেই-এর বাবা-মা এখানে আসার পর থেকেই আমি এখানে আসছি। মনে হচ্ছে যেন একটি পরিবারের গল্পের সমাপ্তি ঘটছে।’ তাঁর মতো বহু দর্শক পান্ডাদের সঙ্গে নিজেদের জীবনের আবেগী সংযোগের কথা তুলে ধরেন।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, পান্ডাদের চীনে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা কয়েক দিন ধরেই চলছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবুও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পান্ডাদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশ পান্ডাদের শেষ দেখা ও তাদের সঙ্গে মানসিক সংযোগ অনুভব করতে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন। মাচিকো সেকি বলেন, ‘পান্ডারা আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে—শক্তি, সাহস, নিরাময়। আমি আজ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে এসেছি।’
যারা লটারি টিকিটে সুযোগ পাননি, তারাও চিড়িয়াখানার বাইরে ও আশপাশে অবস্থান করেন শুধু পান্ডাদের কাছাকাছি থাকতে। ৪৯ বছর বয়সী আকিকো কাওয়াকামি বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি কারণ আমি পান্ডাদের কাছাকাছি থাকতে চেয়েছিলাম।’
সিএ/এএ


