মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গাজার বোর্ড অব পিস বা শান্তি পর্ষদে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ এবং বহুপাক্ষিকতার প্রতি মাদ্রিদের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখাকে উল্লেখ করেছেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণের প্রশংসা করি, তবে বোর্ডে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ৫৬তম বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজার শান্তি পর্ষদ বা বোর্ড অব পিস-এর সনদে স্বাক্ষর করেছেন। এর আগে বিশ্বের অন্তত ৬০ দেশের নেতাকে এই বোর্ডের সদস্য হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ইতিমধ্যেই কিছু দেশ সদস্যপদ নিশ্চিত করেছে।
গাজার শান্তি পর্ষদকে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকি করার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই বোর্ডকে ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত সমাধানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহার করতে চায়। প্রস্তাবিত বোর্ডের আজীবন চেয়ারম্যান হবেন ডনাল্ড ট্রাম্প। বোর্ডের স্থায়ী সদস্য হতে হলে প্রতিটি দেশকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফি প্রদান করতে হবে।
ওয়াশিংটন বলছে, বোর্ড অব পিস বিশ্বের যুদ্ধ বিগ্রহ বন্ধে সহায়তা করবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করবে এবং যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণে সমন্বয় সাধন করবে। মূলত ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা থেকেই এই বোর্ডের ধারণা উদ্ভূত হয়েছে।
ডাভোসে সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হাঙ্গেরি এবং বুলগেরিয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত কানাডা, ব্রিটেনসহ অনেক দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, বোর্ডে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় মাদ্রিদ সদস্যপদে যোগ দিচ্ছে না।
যদিও কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, তুরস্ক, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মিশরের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এই বোর্ডে যোগ দিয়েছে।
সিএ/এসএ


