ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এক বিবৃতিতে জেলেনস্কিকে ‘বিভ্রান্ত ভাঁড়’ অভিহিত করে তার বিরুদ্ধে দ্বিচারিতা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
ইরানের সাম্প্রতিক নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের নেওয়া কঠোর অবস্থানের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। বিক্ষোভ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের আহ্বানও জানান।
এই বক্তব্যের প্রায় এক সপ্তাহ পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে ইউক্রেনের দুর্নীতিগ্রস্ত সামরিক নেতৃত্বকে সমৃদ্ধ করছেন।’
আরাঘচির অভিযোগ, জেলেনস্কি একদিকে জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানকে অবৈধ আগ্রাসন হিসেবে তুলে ধরছেন, অন্যদিকে নিজেই সেই জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
জেলেনস্কিকে সরাসরি আক্রমণ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ‘বিভ্রান্ত ভাঁড়’ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘বিশ্ব এখন এমন বিভ্রান্ত ভাঁড়দের কর্মকাণ্ডে ক্লান্ত।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইউক্রেনের মতো বিদেশি সমর্থন ও ভাড়াটে বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে ইরান নিজ শক্তিতেই আত্মরক্ষা করতে সক্ষম এবং কোনো বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন তাদের নেই।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইরানকে লক্ষ্য করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে একটি ‘নৌবহর’ পাঠিয়েছেন।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তথ্যে বলা হয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।
এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা জবাব দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সামরিক সমাবেশ প্রকৃত সংঘাতের জন্য নয় বলেই আমরা আশা করি। তবে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আমাদের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।’ তার ভাষায়, ‘এবার যেকোনো হামলা—সীমিত, ব্যাপক বা তথাকথিত সার্জিক্যাল—সবকিছুকেই আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে দেখব এবং কঠোরতম জবাব দেব।’
সিএ/এসএ
ছবি: সংগৃহীত


