আফগানিস্তানে যুদ্ধে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য শুধু অপমানজনকই নয়, বরং যুদ্ধে নিহত ও আহত সেনাদের পরিবারগুলোর জন্যও গভীর কষ্টের কারণ। ট্রাম্পের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর আল-কায়েদা ও তালেবান দমনের লক্ষ্যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রায় ২০ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ন্যাটোর ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি সেনা বিভিন্ন সময়ে মোতায়েন ছিলেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান যুদ্ধে ন্যাটোর মোট ৩ হাজার ৪৮৬ সেনা নিহত হন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা নিহত হন ২ হাজার ৪৬১ জন, যুক্তরাজ্যের ৪৫৭ জন এবং কানাডার ১৬৫ জন। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও অন্যান্য ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সেনারাও প্রাণ হারান এবং আহত হন অনেকে।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী সম্পূর্ণভাবে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করলে তালেবান পুনরায় কাবুলের ক্ষমতা দখল করে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে ইউরোপের সঙ্গে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তানে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, আফগানিস্তান যুদ্ধে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো সেনা পাঠালেও তারা ফ্রন্টলাইনে সক্রিয় ছিল না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপসহ তার মিত্রদের জন্য অনেক কিছু করেছে, কিন্তু বিনিময়ে ওয়াশিংটন তেমন কিছু পায়নি।
এই মন্তব্যের পর যুক্তরাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইউরোপীয় বিভিন্ন কর্মকর্তা ও রাজনীতিকরাও ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যকে অপমানজনক এবং স্পষ্টতই ভয়াবহ বলে মনে করি এবং তার এই মন্তব্য যুদ্ধে নিহত বা আহতদের প্রিয়জনদের কষ্ট দিয়েছে।’
ট্রাম্পের ক্ষমা চাওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্টারমার বলেন, ‘যদি আমি ভুল করে কথা বলে থাকি বা এই কথাগুলো বলে থাকি, তাহলে অবশ্যই ক্ষমা চাইতাম।’
ট্রাম্পের মন্তব্যের জেরে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যরাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। লেবার পার্টির এমপি এমিলি থানবেরি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য অত্যন্ত অপমানজনক এবং যুক্তরাজ্য সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে ছিল। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ট্রাম্প কীভাবে ন্যাটো সেনাদের আত্মত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।
কনজারভেটিভ এমপি বেন ওবিস-জেক্টি মন্তব্য করেন, যুক্তরাজ্য ও ন্যাটো অংশীদারদের আত্মত্যাগকে এভাবে হালকাভাবে দেখানো দুঃখজনক। এ প্রসঙ্গে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট বলেন, আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ন্যাটো রক্ত দিয়েছে। তার ভাষায়, প্রতি দুই মার্কিন সেনার বিনিময়ে একজন ন্যাটো সেনা নিহত হয়েছেন।
সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান
সিএ/এসএ


