গত এক বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অন্তত ২৫ লাখের বেশি মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করেছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) তথ্যে জানা যায়, এর মধ্যে ৬ লাখ ৫ হাজার মানুষকে প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই হিসাব ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানের উপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে।
ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘ভলান্টারি সেলফ-ডিপোর্টেশন’। এছাড়া গত এক বছরে দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ১৬ লাখ মানুষ তাদের বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস হারিয়েছে। এর মধ্যে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিল হওয়া ব্যক্তি এবং বিভিন্ন স্টুডেন্ট ও উচ্চদক্ষ কর্মী ভিসা কর্মসূচির আওতায় থাকা অভিবাসীরা রয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) অন্তত ৬৬ হাজার ৮৮৬ জনকে আটক করেছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন দেশজুড়ে প্রায় ৮২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া গত সপ্তাহে অভিবাসন বিষয়ে আরও কঠোর সিদ্ধান্তে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা স্থগিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে। ২০ জানুয়ারি দেশটির বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাজার হাজার শ্রমিক ও শিক্ষার্থী ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। বিক্ষোভের বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মিনিয়াপলিসে বিতর্কিত অভিবাসন পুলিশ আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুডের নিহত হওয়ার ঘটনা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে নর্থ ক্যারোলিনা ও ওহিও পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মিনিয়াপলিসে ৭ জানুয়ারি আইসিই অভিযানের সময় রেনি গুডকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে গুলি করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ‘নো আইস, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দেন।
ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ড ও নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে-তে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অমানবিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিতাড়নের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক মানবিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ আন্দোলনে ইনডিভিবল, ৫০৫০১-এর মতো বামপন্থী সংগঠন, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ও তৃণমূল সংগঠনগুলো সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
সিএ/এসএ


