মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তিনি দেশটিকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ’ দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ হুমকি দেন তিনি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হয়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যদি তাঁর সঙ্গে ‘কিছু একটা’ ঘটে, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে এমন প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে, যা কল্পনাতীত। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে তাঁর নির্দেশনা অত্যন্ত কঠোর এবং ইরানের ওপর আঘাত হবে নজিরবিহীন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজনে এমন জবাব দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হুমকি আর কেউ দেওয়ার সাহস না পায়।
এ সময় ইরান থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আসা হুমকির বিষয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অবস্থানের সমালোচনাও করেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, একজন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হলো অন্য প্রেসিডেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, হুমকি যদি এমন কারও বিরুদ্ধেও আসে, যিনি প্রেসিডেন্ট নন, তবুও যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে।
এরই মধ্যে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর এসেছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে ‘চূড়ান্ত’ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও গত সপ্তাহে ইরানে সরাসরি হামলার সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে আসেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ইরানে চলমান বিক্ষোভে হত্যাকাণ্ড কমছে এবং ব্যাপক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনাও নাকি স্থগিত রয়েছে।
তবে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্প চান—যদি কখনো হামলা করা হয়, তা যেন স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াতে না হয়। এ কারণে তিনি সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী।
এদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। দেশটির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, চলমান অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েক শ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। ওই কর্মকর্তা এ প্রাণহানির জন্য সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেন এবং বলেন, তারা নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম ইরানের কুর্দি-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। ওই অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা রয়েছে এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সেখানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, এসব এলাকাতেই রক্তপাতের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ঘটেছে।
সূত্র: রয়টার্স, নিউজনেশন, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
সিএ/এসএ


