বেলজিয়ামে দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও বয়কটের চাপের মুখে নিজেদের শেষ রেস্তোরাঁটিও বন্ধ করে দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করেছে আন্টভের্পভিত্তিক ‘ইসরাইলি’ রেস্তোরাঁ চেইন ‘বোকার তোভ’। এর মধ্য দিয়ে একসময়ের পরিচিত ও সমৃদ্ধ এই রেস্তোরাঁ ব্যবসার কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটল।
জর্ডানভিত্তিক গণমাধ্যম রয়া নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা আর্থিক সংকটের ফল। বিভিন্ন বাহ্যিক চাপ এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে গেন্টে অবস্থিত তাদের একটি শাখা বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ আন্টভের্পে অবস্থিত শেষ শাখাটিও বন্ধ করার মধ্য দিয়ে পুরো চেইনের কার্যক্রম থেমে গেল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একসময় ‘বোকার তোভ’ বেলজিয়ামজুড়ে চারটি শাখা পরিচালনা করত। এর মধ্যে আন্টভের্পে ছিল দুটি, গেন্টে একটি এবং ব্রাসেলসে একটি শাখা। আন্টভের্পের শাখাটি শহরের ঐতিহাসিক ইহুদি কোয়ার্টারে অবস্থিত ছিল, যেখানে প্রায় ২০ হাজার অর্থোডক্স ইহুদি বসবাস করেন।
রেস্তোরাঁ চেইনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে ‘ইসরাইলবিরোধী বয়কট’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গাজায় ইসরাইলি হামলার পর এই বয়কট আরও তীব্র আকার ধারণ করে, যার প্রভাব সরাসরি ব্যবসার ওপর পড়ে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতির জন্য ‘ইহুদি বিদ্বেষ’-এর বিষয়টিও তুলে ধরেছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট দে ভেভার আন্টভের্প শাখা পরিদর্শন করে ‘ইহুদি বিদ্বেষ’-এর নিন্দা জানিয়েছিলেন।
তবে আর্থিক নথির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির দেনা ২০২১ সাল থেকেই বাড়তে শুরু করে এবং তার আগের বছর প্রথমবারের মতো লোকসানের মুখে পড়ে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাই এই বন্ধ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ ছিল।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন বেলজিয়ামসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসরাইলবিরোধী বয়কটের প্রবণতা বাড়ছে। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে ৩০০টিরও বেশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং ৮৭৫ জন শিল্পী ‘ইসরাইলি’ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বয়কটে অংশ নিয়েছেন।
সিএ/এসএ


