ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গাজা উপত্যকায় তুরস্ক ও কাতারের কোনো সেনা মোতায়েনের সুযোগ তিনি দেবেন না। গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা তদারকির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে তুরস্ক ও কাতারের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তের কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি এ অবস্থান জানালেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই ইস্যুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট মতবিরোধ রয়েছে—এ বিষয়টিও স্বীকার করেছেন নেতানিয়াহু। সোমবার ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় তুরস্ক ও কাতার কোনোভাবেই কর্তৃত্ব বা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। এ সময় তিনি দেশ দুটিকে ইসরায়েলের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হিসেবে উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ নামে একটি কমিটিতে তুরস্ক ও কাতারের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যারা গাজার তদারকি কার্যক্রমে অংশ নেবেন। তবে এই ঘোষণার আগে নেতানিয়াহুর কার্যালয় একাধিকবার জানিয়েছিল, যুদ্ধের পর গাজায় তুরস্ক বা কাতারকে কোনো অবস্থান নিতে দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর নেতানিয়াহু তার অবস্থান কিছুটা কৌশলগতভাবে ব্যাখ্যা করলেও তুরস্ক ও কাতারের সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতাকেই গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন।
নেসেটে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘তুর্কি সেনা ও কাতারি সেনারা গাজা উপত্যকায় থাকবে না।’ যদিও তুরস্ক গাজার নিরাপত্তা তদারকির জন্য প্রস্তাবিত বহুজাতিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, কাতার এ ধরনের কোনো প্রস্তাব বিবেচনা করেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, কাতারের সামরিক সক্ষমতা এ ধরনের দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত নয়।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, গাজায় হামাসকে নিরস্ত্র করা হবে এবং ইরান ইসরায়েলে হামলা চালালে তার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলা নিয়ে তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে তাঁর লুকানোর কিছু নেই। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদের কঠোর সমালোচনা করেন।
নেসেটে পাল্টা বক্তব্যে ইয়াইর লাপিদ নেতানিয়াহুকে গাজা যুদ্ধে ব্যর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু চরমপন্থী জোটসঙ্গীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, যার ফলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দুর্বল হয়েছে এবং দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে হয়ে পড়েছে। আরেক বিরোধী নেতা আভিগদর লাইবারম্যান প্রশ্ন তোলেন, নেতানিয়াহু কি জায়নিস্ট আদর্শের মূল চেতনাই ভুলে গেছেন।
খবরে বলা হয়েছে, গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডে তুরস্ক ও কাতারকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে নেতানিয়াহুকে আগে থেকে জানানো হয়নি। তবে নেসেটে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতানৈক্য হলেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল থাকবেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের মৌলিক স্বার্থের প্রশ্নে আমরা তর্ক করতে পারি, আমাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে পারি এবং প্রয়োজনে সমঝোতায়ও পৌঁছাতে পারি।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট রয়েছে। ট্রাম্পকে তিনি হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে উল্লেখ করেন। গাজার দ্বিতীয় ধাপের লক্ষ্য সম্পর্কে নেতানিয়াহু বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপের কথা খুব সহজ—হামাস নিরস্ত্র হবে এবং গাজা হবে সামরিকমুক্ত। আমরা এই লক্ষ্যেই অটল আছি। সহজ পথে হোক বা কঠিন পথে, এই লক্ষ্য অর্জিত হবেই।’
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
সিএ/এসএ


