আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগের শুনানিতে মিয়ানমার তার সামরিক অভিযানের পক্ষেই সাফাই দিয়েছে। দেশটি দাবি করেছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো অভিযান সম্পূর্ণ বৈধ এবং এটি কোনো গণহত্যার চেষ্টার অংশ নয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার শুনানি শুরু হয়। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার অভিযোগে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অভিযান শুরু করে। অভিযানে গণহত্যা, যৌন নিপীড়ন এবং বাড়িঘর ও গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
জাতিসংঘের তদন্তে বলা হয়, সেনাদের এই আগ্রাসন স্পষ্টভাবে জাতিগত নির্মূলের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল। ওই সময় প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হন। প্রাণ বাঁচাতে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এ ঘটনার পর ২০১৯ সালে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে।
শুনানিতে মিয়ানমারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বলেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার জবাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই অভিযানকে বৈধ দাবি করে তিনি জানান, গাম্বিয়া রোহিঙ্গা গণহত্যা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
মামলার শুরুতে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জাল্লো উল্লেখ করেন, মিয়ানমার দীর্ঘকাল ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে নিপীড়ন চালাচ্ছে। তবে মিয়ানমার তাদের প্রমাণ এবং জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিক অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার রায় কেবল মিয়ানমারের জন্য নয়, আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যা মামলার প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার করা গণহত্যা মামলার ক্ষেত্রেও এ রায়ের প্রভাব পড়তে পারে।
সিএ/এসএ


