জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস স্বীকার করেছেন, তার সংস্থা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আনুগত্য নিশ্চিত করতে যথেষ্ট প্রভাব রাখতে পারছে না। তিনি বলেন, বিশ্বের বড় শক্তিগুলো প্রায়শই আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে নিজেদের ক্ষমতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে গুতেরেস বলেন, “বড় শক্তিগুলো কি বাস্তব ও স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের প্রভাব ব্যবহার করছে, নাকি শুধু দ্রুত সমস্যার সমাধানের জন্য?” তিনি যুক্তি দেন, অনেক সময় এসব শক্তি সদস্য রাষ্ট্রদের স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়, যা আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মহাসচিব আরও জানান, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এখন বিশ্বের বাস্তব প্রতিনিধিত্ব করে না। স্থায়ী পাঁচ সদস্য – ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র – যেকোনো প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারে। এর ফলে, যেমন ইউক্রেন এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, ভেটো ক্ষমতা প্রায়শই ব্যক্তিগত বা রাষ্ট্রীয় স্বার্থে ব্যবহার হচ্ছে। গুতেরেস পরিষদের গঠন সংস্কারের আহ্বান জানান, যাতে বৈধতা পুনরুদ্ধার করা যায়, সবার কথা শোনা যায় এবং অগ্রহণযোগ্য বিষয় এড়ানো যায়।
তিনি আরও বলেন, গাজায় সংঘটিত মানবিক সংকটের সময় জাতিসংঘ সাহায্য বিতরণে বাধার সম্মুখীন হয়। ইসরাইল এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে প্রবেশ করতে বাধা দেয়ায় জাতিসংঘ কার্যকরভাবে সাহায্য পৌঁছে দিতে পারেনি। গুতেরেস বলেন, “আমরা প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু আমাদের শর্ত দেয়া হয়েছিল।”
মহাসচিব সাধারণ পরিষদের বার্ষিক ভাষণে সতর্ক করে বলেন, বিশ্বব্যাপী সংঘাত, দায়মুক্তি, অস্বাভাবিক শক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪৫ সালের জাতিসংঘের কাঠামো ২০২৬ সালের সমস্যা মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয় এবং বিশ্বকে বর্তমান নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজন।
সিএ/এসএ


